নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলসহ ২২৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।
ঘটনার দুই দিন পর মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) রাতে মনোহরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় বিএনপির ৭৩ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম।
মামলার আসামিরা হলো, নরসিংদী জেলা যুবদলের সভাপতি মহসিন হোসাইন বিদ্যুৎ, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, সরদার তোফাজ্জল হোসেন লিয়াকত, সারোয়ার হোসেন কানন, সরদার মাহমুদুল হাসান ফোটন, এ্যাড. হান্নান, মুশফিকুর রহমান, মনির, সরদার শাহজাহান, ছোটন, সরদার মামুন, সাখাওয়াত হোসেন বকুলসহ প্রমুখ।
খুন, গুম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ ভোলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিম ও জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলমের মৃত্যুর প্রতিবাদে রোববার দুপুরে মনোহরদী উপজেলার হেতেমদীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। অপরদিকে একই সময় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চন্দনবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দোয়া, মিলাদ ও গণভোজের আয়োজন করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ।
পাশাপাশি দুটি সভা হওয়ায় সহিংসতা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বেলা একটার দিকে হাফিজপুর গ্রাম থেকে বিএনপির সাবেক এমপি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী, জেলা যুবদলের সভাপতি মহসিন হোসাইন বিদ্যুৎ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলনসহ জেলা ও উপজেলার নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় মিছিলের সামনের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে এগুতে থাকে। মিছিলটি কিছুদূর এগুলো পুলিশের বাঁধার মুখে পড়েন। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়ায়। এক পর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের নিভৃত করতে রাবার বুলেট ও শর্টগানের গুলি ছোড়ে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠানসহ ১০ পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়।
গুলিবিদ্ধরা হলেন, যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগ, জেলা ছাত্রদলের সদস্য মনিরুজ্জামান ছোটন, ছাত্রদল নেতা মাহবুব ও মনির।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় পুলিশ সদস্যরা আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ ও ৪টি অবিস্ফোরিত কককেল উদ্ধার করা হয়। মামলার এজাহারে বেআইনিভাবে দেশি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।