সিরাজগঞ্জের ইবি রোডের জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাথে পুলিশের ১ ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া, হামলা, সংঘর্ষ, ইট-পাটকেল, রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় সাত পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া এ ঘটনায় পুলিশ ধারালো অস্ত্রসহ এক ছাত্রদল কর্মীকে আটক করেছে। এ হামলা সংঘর্ষ আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আহতদের নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেলা ১১টার দিকে জেলা বিএনপি এক সমাবেশের আয়োজন করে। সকাল থেকেই বিএনপির নেতা-কর্মীরা শহরের ইবি রোডের জেলা বিএনপি কার্যালয় ও পাশের ভাসানী মিলনায়তন চত্বরে সমবেত হয়। এরপর দলীয় সমাবেশ শেষে সবাই ফিরে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই বিএনপির কিছু কর্মী বিশৃঙ্খলা শুরু করে ও একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে দলীয় নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে পুলিশের সাথে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পিছু হটলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ হামলা-সংঘর্ষ চলাকালে ইট-পাটকেলের আঘাতে সাত পুলিশ ও রাবার বুলেট, টিয়ার শেল ও লাঠির আঘাতে বিএনপির ১৩ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। এছাড়া বিএনপির সমাবেশ চলাকালে রাস্তায় তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ধারালো অস্ত্রসহ এক ছাত্রদল কর্মীকে আটক করেছে। এখন সেখানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জেলা বিএনপি কার্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, জানান জসিম উদ্দিন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশের রাবার বুলেট ও টিয়ার শেলের আঘাতে বিএনপির অন্তত ১২/১৩ জন নেতা-কর্মী আহত হয়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।