আগস্টে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২.৬%

বিদেশ থেকে প্রবাসী আয় পাঠানো সহজ করায় জুলাই মাসের মতো আগস্টেও রেমিট্যান্স বেড়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসেও প্রবাসী আয় ২০০ কোটি ডলার অতিক্রম করেছে। গেল মাসে প্রবাসীরা ২০৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ বা ২২ কোটি ৮০ লাখ ডলার বেশি। ২০২১ সালের আগস্টে প্রবাসীরা ১৮১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে রেমিট্যান্স জুলাইয়ের তুলনায় ৩ শতাংশ বা ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার কম। জুলাই মাসে প্রবাসীরা ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। জুলাই মাসে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণ হলো কোরবানির ঈদ। অতীতেও ঈদের মাসে রেমিট্যান্স বাড়তে দেখা গেছে। আগস্ট মাসে কোনো উৎসব না থাকার পরও ২০০ কোটি ডলার অতিক্রম করেছে প্রবাসী আয়। মূলত প্রবাসী আয় আনতে নীতিমালা সহজ করা পাশাপাশি ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে রেমিট্যান্স বাড়ছে।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দুই মাসের (জুলাই-আগস্ট) হিসাবে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ। গত বছর জুলাই-আগস্ট সময়ে এসেছিল ৩৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলার। আর চলতি বছরের একই সময়ে এসেছে ৪১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছর জুলাই মাসের চেয়ে বেশি ছিল ১২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেমিট্যান্স কমে যাওয়া ও রপ্তানি আয়ের বিপরীতে উচ্চ আমদানির কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৯৫৯ কোটি ডলার। যা জুনে ছিল ৪ হাজার ১৮২ কোটি ডলারে। এমন পরিস্থিতিতে রেমিট্যান্স প্রেরণ সহজ করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত দাম প্রতি ডলার ৯৫ টাকার পরিবর্তে প্রবাসীদের কাছ থেকে ১০০ টাকার বেশি দামে কিনছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো।

দুই বছরের করোনা মহামারীর মধ্যে বিদেশে জনশক্তি পাঠানো বন্ধ থাকলেও রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বগতি ছিল। গেল বছরের আগস্টেই কমতে থাকে রেমিট্যান্স। পরবর্তীকালে সরকার রেমিট্যান্সের বিদ্যমান দুই শতাংশ প্রণোদনা বাড়িয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে আড়াই শতাংশ করে। এরপর মে মাসে যেকোনো পরিমাণের রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের কোনো নথি দিতে লাগবে না জানিয়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। রেমিট্যান্সে গতি ফেরার আগেই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। দেশে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে কমে যায় প্রবাসী আয়ও। যুদ্ধের প্রভাবে আমদানি ব্যয় রেকর্ড পরিমাণে বাড়ে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমতে থাকে। গত বুধবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৯০৫ কোটি ডলার। আমদানির চাপ সামাল দিতে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭ হাজার ৬০০ কোটি ডলার বাজারে সরবরাহ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের ইতিবাচক ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে। আশা করছি বছরের বাকি ১০ মাসেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’

প্রবাসী আয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন ঘটে ২০২০-২১ অর্থবছরে। সে সময় ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে মন্দা দেখা দেয়। পুরো অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩ কোটি ডলার এসেছিল।