চিতা ধরতে যুদ্ধসাজ!

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে একটি চিতা ধরতে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে বন বিভাগ। গত ২৭ দিন ধরে রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের শহর বেলগাউমের প্রায় ৩০০ হেক্টর জায়গা চষে ফেলেছেন বন বিভাগের নিয়োগ করা ৩০০ মানুষ; যাদের মধ্যে আছেন পশু চিকিৎসক, অবেদনবিদ সার্পশ্যুটার আর অস্ত্রধারী বনরক্ষী। বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে ২০ ক্যামেরাসহ নানা প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি। বেশ কয়েকটি বড় লোহার খাঁচা পাতা হয়েছে ফাঁদ হিসেবে। অভিযানে আছে দুটো হাতি আর অসংখ্য কুকুর। কিন্তু আপসোস গত আগস্ট মাসের প্রথম দিকে শুরু হওয়া অভিযানের ফলাফল এখনো শূন্য। 

বিবিসি জানাচ্ছে, গত ৫ আগস্ট কর্ণাটকের উত্তরাঞ্চলের শহর বেলগাউমের এক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এক ব্যক্তিকে আক্রমণ করে। চিতার আক্রমণে লোকটি বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন। এলাকায় ছড়ায় আতঙ্ক। এর মধ্যে পরপর কয়েক দিন শহরের একটি গলফ কোর্স এলাকায় দেখা গেছে তাকে। তাতেই ভয়ে কাহিল স্থানীয়রা। তারা বন বিভাগকে পদক্ষেপ নিতে লিখিতভাবে জানান। এরপর রাজ্যের বন বিভাগ চিতাটি ধরতে বিশেষ অভিযান শুরু করে। 

তবে এখন সফল না হওয়ায় বিজেপি শাসিত রাজ্যটির বনমন্ত্রী উমেষ কাত্তির পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। অবশ্য উমেষ বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করলে যদি চিতাটি ধরা পড়ে তবে তিনি তাতে প্রস্তুত আছেন। 

রাজ্যটির শীর্ষ বন কর্মকর্তা বিজয়কুমার গোগি বিবিসিকে বলেন, চিতাটি ধরতে যে আমরা কতটা চাপে আছি তা বোঝানো যাবে না। যদি প্রয়োজন হয় আমরা আরও লোক দেব। তবুও যত দ্রুত সম্ভব চিতাটি ধরতে চাই আমরা। তারপর সেটি বনাঞ্চলে নিয়ে ছাড়তে চাই। তবে অভিযান শুরুর পর এক-দুইবার চিতাটি ক্যামেরায় ধরা পড়লেও কারও সামনে এখনো পড়েনি। সে যেন ভোজবাজির মতো মিলিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে একটি মাত্র চিতা ধরতে যে বড় মাপের অভিযান শুরু হয়েছে, সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে তা বন্যপ্রাণী সম্পর্কে মানুষকে ভুল বার্তা দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন পরিবেশবিদরা। তারা বলেছেন, এত এত আয়োজন আর প্রচার ভবিষ্যতে অন্য বন্যপ্রাণীর জন্যও হুমকি তৈরি করছে। সাধারণ একটি ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক’ স্বার্থে এমন ঢাকঢোল পিটিয়ে, ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বড় করা হচ্ছে।