দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, প্রখ্যাত সাংবাদিক অমিত হাবিবের স্মরণসভা আজ শনিবার। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বিকাল ৪টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। 'অসীমে অমিত' শিরোনামে এ স্মরণসভায় প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
গত কয়েক দশক ধরে এদেশে সাংবাদিক ও সংবাদপত্র গড়ার এ নেপথ্যের কারিগরকে নিয়ে গণমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা স্মৃতিচারণ করবেন। ২৮ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পরে রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অমিত হাবিবের মৃত্যুতে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে শোকপ্রকাশ করেন। অনেকে ছুটে যান নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে। কাজপাগল মিতভাষী এ সম্পাদকের প্রয়াণও কাজ করতে করতেই।
এর আগে ২১ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে স্ট্রোকে আক্রান্ত অমিত হাবিবকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশ রূপান্তর অফিসে কাজ করা অবস্থায় তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। আগেও তার একবার স্ট্রোক হয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তার হেমোরেজিক স্ট্রোক হয়েছে। রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়ে ব্রেইনের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ হয়েছে।
অমিত হাবিব ১৯৬৩ সালের ২৩ অক্টোবর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কাজিরবেড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মৃত খন্দকার ওয়াহেদুল হক, মা মৃত শামসুন নাহার বকুল। তার বাবা মহেশপুর উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছিলেন। ওয়াহেদুল হকের তিন সন্তানের মধ্যে অমিত হাবিব ছিলেন সবার বড়। তার অপর দুই ভাই ফয়জুল হাবিব ও মেহেদি হাসান।
যশোর এমএম কলেজ থেকে ১৯৮০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন তিনি। তখন থেকেই লেখালেখিতে যুক্ত হন। সে সময় বিচিন্তা, পূর্বাভাস, প্রিয় প্রজন্ম পত্রিকায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত নাটক, অনুষ্ঠানের সমালোচনা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী লেখা লিখে বেশ জনপ্রিয়তা পান।
১৯৮৬ সালে খবর গ্রুপ অব পাবলিকেশন্সে একই সঙ্গে রিপোর্টার ও সাব-এডিটর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন অমিত হাবিব। পরে সাপ্তাহিক পূর্বাভাস পত্রিকায় সাব-এডিটর পদে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৭-৮৮ সালে মাসিক উন্মেষ পত্রিকায় অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর এবং ১৯৯১ সালে দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকায় সিনিয়র সাব-এডিটর পদে যোগ দেন। এর পরের বছর একই পদে যোগ দেন দৈনিক ভোরের কাগজে। অল্প দিনের মধ্যে পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ও পরে বার্তা সম্পাদক হন তিনি।
২০০৩ সালে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকায় প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন খ্যাতিমান এই সাংবাদিক। তবে পত্রিকাটি বাজারে আসে ২০০৬ সালে। ২০০৭ সালে চীনের আন্তর্জাতিক বেতারে বিদেশি বিশেষজ্ঞ হিসেবে যোগ দিয়ে পেইচিংয়ে কর্মরত থাকা অমিত হাবিব দেশীয় সাংবাদিকতার সঙ্গে দূরত্বের কথা বিবেচনা করে তা ছেড়ে দিয়ে ফিরে আসেন। পরের বছর দৈনিক সমকালে প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন তিনি।
অমিত হাবিব দৈনিক কালের কণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন। দৈনিক সমকালের প্রধান বার্তা সম্পাদকের পদ ছেড়ে ২০০৯ সালে কালের কণ্ঠে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ২০১৩ সাল থেকে কালের কণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন অমিত হাবিব। ২০১৮ সালে তিনি দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব নেন।