ইসলামী ধারার ব্যাংক

আমানতের চেয়ে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি বেশি

দেশের ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোতে আমানতের পরিমাণ প্রতি বছরই বাড়ছে। এক বছরের ব্যবধানে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে ১২ শতাংশ। একই সঙ্গে বেড়েছে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণও। তবে আমানতের প্রবৃদ্ধির চেয়ে বিনিয়োগের পরিমাণ বেশি। চলতি বছরের জুন শেষে ইসলামী ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। আমানতের চেয়ে বিনিয়োগ বাড়ায় ব্যাংকগুলোতে অলস টাকার পরিমাণও কিছুটা কমেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত প্রান্তিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশে বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক রয়েছে ১০টি, যার মোট শাখার পরিমাণ ১ হাজার ৬৮২টি। এছাড়া ৯টি প্রচলিত ব্যাংকের ৪৫টি ইসলামী ব্যাংকিং শাখা রয়েছে। এর বাইরে ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ৪৮০টি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে।   

বাংলাদেশ ব্যাংকের চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি বছরের জুন শেষে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোতে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ১২ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ৬৮ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। মোট আমানতের মধ্যে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকে রয়েছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা। অবশিষ্ট আমানত অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের ইসলামী শাখা ও ইসলামী উইন্ডোর।

তবে আমানতের চেয়ে ইসলামী ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে ইসলামী ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ (ঋণ ও অগ্রিম) দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোর চেয়ে প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের ইসলামী শাখা ও ইসলামী উইন্ডোর বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি বেশি। পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ চলতি জুন শেষে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬১ হাজার ২৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ইসলামী শাখাগুলোর বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি ৪২ শতাংশ ও ইসলামী উইন্ডোর প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ।

আমানতের তুলনায় বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়ায় ইসলামী ব্যাংকগুলোতে আমানতের বিপরীতে বিনিয়োগ অনুপাত বেড়েছে। ২০২১ সালে ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানত-বিনিয়োগ অনুপাত ছিল ১ অনুপাত ৮৯, যা চলতি বছরের জুনে এসে ১ অনুপাত ৯৩-এ উন্নীত হয়েছে। আমানতের বিপরীতে বিনিয়োগ বাড়ায় এসব ব্যাংকের অলস টাকার পরিমাণও কমেছে। চলতি জুন শেষে ইসলামী ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩৬ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা।

এদিকে ২০২১ সালের তুলনায় রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় এর প্রভাব ইসলামী ব্যাংকগুলোতেও পড়েছে। ২০২১ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ইসলামী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স আসে ২০ হাজার ৩৯ কোটি টাকা, যা চলতি এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে আসে ১৫ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। এ হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে ইসলামী ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স আসা কমেছে ২১ দশমিক ৫৭ শতাংশ।