যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বের দৌড়ে ভোটাভুটি শেষ হয়েছে দুই দিন আগেই। আজ সোমবার ঘোষণা করা হবে কনজারভেটিভ পার্টির নেতার নাম। তিনিই হবেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। প্রায় দুই মাস ধরে চলা এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্যায়ে দুই প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস এবং সাবেক চ্যান্সেলর ঋষি সুনাকের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিতে শুক্রবার ভোট হয়।
দুজনের মধ্যে লিজ ট্রাসই প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। জনমত জরিপে সম্প্রতি ঋষি সুনাকের চেয়ে লিজ ট্রাসকেই অনেক বেশি এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। সে ক্ষেত্রে আরও এক নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ভোটের আগে থেকেই দুই প্রতিপক্ষ প্রার্থী দেশজুড়ে প্রচার চালিয়েছেন। টেলিভিশনে তিনটি বিতর্কে মুখোমুখি হয়েছেন। ভোট শেষ হওয়ার পরও আশা ছাড়েননি কেউই। লিজ ট্রাস বিরাট ব্যবধানে জয়ী হতে চলেছেন বলে ধারণা করা হলেও সুনাক এখনো হাল ছাড়েননি। টুইটে এক পোস্টে সুনাক লিখেছেন, ‘ভোটাভুটি শেষ। আমার সব সহকর্মী, প্রচার দল এবং আরও যারা আমার সঙ্গে দেখা করেছেন, আমাকে সমর্থন করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। সোমবার দেখা হবে।’স্থানীয় সময় গতকাল সন্ধ্যায় বিবিসি ওয়ানে সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ঋষি সুনাক ও লিজ ট্রাসের। এরপর সোমবার দুজনের মধ্যে জয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে এবং মঙ্গলবার দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার অভিষেক হবে। পার্টিগেট কেলেঙ্কারির মুখে গত জুলাই মাসে বিরোধিতার মুখে পড়ে দলীয় নেতৃত্ব থেকে পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তারপরই কনজারভেটিভ দলে শুরু হয় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা। সেই থেকেই যুক্তরাজ্য নতুন প্রধানমন্ত্রী অপেক্ষায় আছে। প্রথম দিকের ভোটে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনাককেই এগিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছিল। এতে তিনিই প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বলে ধারণা জোরদার হচ্ছিল। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে দৃশ্যপট। ভোটাররা বরিসের মন্ত্রিসভায় সুনাকের কার্যকারিতাও বিশ্লেষণ করে দেখেছে বলে মত দিয়েছেন কেউ কেউ। যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়ার সময় সুনাক চ্যান্সেলর অব এক্সচেকার হিসেবে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি। এমনকি সম্প্রতি লিজ ট্রাসের সঙ্গে মুখোমুখি টিভি বিতর্কে তার কর-হ্রাসের নীতির তীব্র সমালোচনাও করেছিলেন সুনাক। কেউ কেউ বলছেন, এসব কারণে ভোটারদের নিজের দিকে টানতে ব্যর্থ হয়েছেন সুনাক। তাই ভোটের ফল নিয়ে এখন দোলাচলে সুনাক। জয়ী হতে পারলে যুক্তরাজ্যে তার রাজনৈতিক লড়াই আলদা তাৎপর্য পাবে। আর তা না হলে লিজের মন্ত্রিসভায় সুনাক থাকবেন না বলেই আভাস দিয়েছেন।