কথা রাখার চ্যালেঞ্জ লিজের

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন লিজ ট্রাস। গতকাল সোমবার সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাককে পরাজিত করে ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচিত হন তিনি। বরিস জনসনের স্থলাভিষিক্ত হবেন লিজ। জয়ের পরেই অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসছেন ৪৭ বছর বয়সী এ রাজনীতিবিদ। তবে তিনি এমন সময় ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে যাচ্ছেন যখন জ্বালানি তেলের সংকট ও রেকর্ড মূল্যস্ফীতিতে নাজেহাল তার দেশসহ গোট বিশ্ব। তাই জ্বালানির দামে লাগাম পরিয়ে মূল্যস্ফীতির হাত থেকে সাধারণ নাগরিকদের রক্ষা এবং কনজারভেটিভ দলের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ নিয়েই শুরু হচ্ছে তার নতুন পথচলা।

জয়ের আগে লিজ ট্রাস বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হলে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির রাশ টেনে ধরতে এক সপ্তাহের মধ্যেই একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন। তবে কীভাবে তিনি জ্বালানি তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি মোকাবিলা করতে চান সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি মোটেই সহজ হবে না লিজের জন্য। কারণ জ্বালানির দাম শুধু তার দেশের একক বিষয় নয়। বিশ্ববাজারেই জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। গোটা বিশ্বেই যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গত রবিবার বিবিসির এক অনুষ্ঠানে লিজ ট্রাস বলেন, জনগণ এবং দেশের অর্থনীতি উভয়ের জন্যই জ্বালানি বিল নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা ‘জরুরি’। যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিকভাবে জ্বালানির মূল্যের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দেশে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর একটি পরিকল্পনা নিয়ে ‘হাতে হাত ধরে’ এগিয়ে যেতে আরও সমর্থন প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। আরেক প্রতিশ্রুতিতে তিনি বলেছিলেন, জয়ী হলে এ মাসের শেষের দিকে একটি জরুরি বাজেট থেকে প্রায় তিন হাজার কোটি পাউন্ড কর কমিয়ে দেবেন।

অর্থনীতির অগ্রগতির বিষয়ে এ নেতা বলেন, ‘সবসময় সবকিছু পুনর্বণ্টনের লেন্স দিয়ে দেখা ভুল বলেই আমি বিশ্বাস করি। কারণ আমি যে সম্পর্কে বলছি তা হচ্ছে অর্থনীতির অগ্রগতি এবং অর্থনীতির বৃদ্ধি হলে প্রত্যেকে উপকৃত হবে। গত ২০ বছরে ধরে অর্থনৈতিক বিতর্কগুলোতে বণ্টন সম্পর্কিত আলোচনাই প্রাধান্য পেয়েছে এবং তাতে যা ঘটেছে তা হলো, আমরা তুলনামূলকভাবে কম প্রবৃদ্ধি পেয়েছি।’

ট্রাসের কর কর্তনের প্রস্তাবের সঙ্গে অবশ্য সম্পূর্ণ একমত নন সুনাক। তিনি কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, মূল্যস্ফীতি কমে না আসা পর্যন্ত কর কর্তন নিয়ে অপেক্ষা করা উচিত। বিরোধী লেবার পার্টির ছায়া অ্যাটর্নি জেনারেল এমিলি থর্নবেরি বলেন, জ্বালানি পরিকল্পনা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। বাড়তে থাকা বিল পরিশোধে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষদের রীতিমতো লড়াই করতে হচ্ছে। তারা সাহায্যের জন্য ‘মরিয়া’ হয়ে আছে। সেটা মোকাবিলা সহজ নয়।  বামপন্থি পরিবারে জন্ম নেওয়া ট্রাস প্রথমে লিবারেল ডেমোক্র্যাট ছিলেন। তবে ২০১০ সালে তিনি কনজারভেটিভ পার্টি থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তিনি ব্রেক্সিটেরও বিপক্ষে ছিলেন। তবে পরে ভোল পাল্টান। ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মুক্তবাণিজ্য চুক্তিবিষয়ক প্রতিনিধি দলের প্রধান হন তিনি। গত বছর পান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব। ইউক্রেন ইস্যুতেও তিনি রাশিয়ার কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। পোশাক আর স্টাইলের কারণে তাকে প্রথম নারী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সঙ্গেও তুলনা করা হয়। তবে মার্গারেট থ্যাচারের মতো শক্ত হাতে দেশ সামলাতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।