লিজের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মন্ত্রিসভা

নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন লিজ ট্রাস। গতকাল মঙ্গলবার সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পদত্যাগের পর রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দায়িত্ব বুঝে পান এই কানজারভেটিভ নেতা। তবে তার নেতৃত্বে সামনের দিনগুলোতে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের রূপরেখা কেমন হবে, তা নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ।  ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এর সদস্য দেশগুলোর আশা নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নতুন দিনের সূচনা হবে তাদের সম্পর্কের। ইউক্রেনের আশা আগের মতোই যুক্তরাজ্যকে পাশে পাবে তারা। আর রাশিয়ার ভাষ্য, সম্পর্কের কোনো পরিবর্তনের আশা দেখছে না তারা। তবে মস্কোর সঙ্গে লন্ডনের সম্পর্ক আরও খারাপ না হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছে দেশটি। 

কূটনৈতিক এসব বিষয়ের পাশাপাশি নতুন প্রধানমন্ত্রীকে জ্বালানি সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি থেকে শুরু করে দলীয় নানা ইস্যু সামাল দিতে হবে। লিজ ট্রাস এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কীভাবে তার সরকার বা মন্ত্রিসভা সাজাবেন তার ওপরও নির্ভর করছে বলে বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্সের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিশ্লেষকদের বরাতে বলা হয়েছে।  গত সোমবার লিজ ট্রাস কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান হিসেবে জয়লাভ করেন। এরপর তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে বাকি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। তবে সেদিন থেকেই নানা প্রতিক্রিয়া শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন দেশ, জোট ও অঞ্চলের নেতাদের মুখে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেলের ভাষ্য, লিজ দায়িত্ব নিলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুত্তরাজ্যের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে। ইইউ এবং ব্রিটেনের সম্পর্কের আরও উন্নতি হবে। লিজ ট্রাস নির্বাচিত হওয়ায় ব্রিটেনের সঙ্গে আগামী দিনে সম্পর্ক আরও জোরালো হওয়ার আশা ফ্রান্সেরও। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান হিসেবে লিজ দায়িত্ব নিলে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে। বরিস জনসনের মতো লিজ ট্রাসও ইউক্রেনকে সমর্থন জানাবে বলে মনে করছে কিয়েভ। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশটিতে রুশ অভিযান শুরুর পর থেকে লিজ ট্রাস কিয়েভকে সমর্থন জানিয়ে আসছেন। এদিকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদে যেই আসুক না কেন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের কোনো পরিবর্তনের আশা দেখছে না ক্রেমলিন। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক খারাপ না হওয়ার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না ক্রেমলিন মুখপাত্র। তার ভাষ্য, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেবে, তা সময়ই বলে দেবে।

এদিকে কূটনৈতিক এই বিষয়গুলো ছাড়াও জ্বালানি সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি থেকে শুরু করে দলীয় নানা ইস্যু সামাল দিতে যথাযথভাবে মন্ত্রিসভা সাজাতে না পারলে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল লিজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই বরিস জনসনের মন্ত্রিসভার দুই সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল ও সংস্কৃতিমন্ত্রী নাদিনে ডরিস পদত্যাগ করেছেন। তবে এখন আলোচনা চলছে লিজের মন্ত্রিসভায় কারা কারা থাকতে পারেন, তা নিয়ে। দেশটির গণমাধ্যম গার্ডিয়ান লিজ ট্রাসের মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন এমন ১০ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এদের মধ্যে আছেন কনজারভেটিভ দলের সাবেক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক পরামর্শদাতা মার্ক ফুলব্রুক, ট্রাসের একজন সাবেক বিশেষ উপদেষ্টা রুথ পোর্টার, ট্রাসের মিডিয়াবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টাদের একজন ছিলেন অ্যাডাম জোনস। সাবেক সাংবাদিক সাইমন ম্যাকগি, ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মকর্তা ডেভিড ক্যানজিনি, লিজের সাবেক সহকর্মী  জেসন স্টেইন, বিশেষ উপদেষ্টা সারাহ লুডলো, সোফি জার্ভিস, শেরিডান ওয়েস্টলেক ও জেমস বোলার।