বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার সকালে চালানো এ অভিযানে দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান শাহিনের বাগবিতন্ডা হয়। দুদক কর্মকর্তারা চিকিৎসকদের এক সপ্তাহের বায়োমেট্রিক হাজিরা দেখতে চাইলে তা না দেওয়া নিয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেননি দুর্নীতি দমন কমিশন বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক দেবব্রত মন্ডল। তিনি বলেন, অভিযান সম্পর্কে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয় থেকে বিস্তারিত জানানো হবে।
তবে কলেজ অধ্যক্ষ দুদক টিমের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) সঙ্গে আলাপ করেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, দুদক টিম হঠাৎ করে এসে কাগজপত্র চাইতে পারে না।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করা, হাসপাতালের চেয়ে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী নিয়ে ব্যস্ত থাকাসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে গতকাল সকাল ৯টায় অভিযান চালায় দুদক। প্রায় এক ঘণ্টার এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদক বরিশাল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহা।
জানা গেছে, চিকিৎসকরা দায়িত্বে অবহেলা করেন বলে ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দেন। এ ছাড়া দুজন চিকিৎসকের বিষয়ে অভিযোগ আসে যে, তারা সকালে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে আসেন না। ব্যক্তিগত চেম্বারে প্রতিদিন ৩-৪শ’ রোগী দেখেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সকালে দুদক টিম কলেজ অধ্যক্ষ ডা. মনিরুজ্জামান শাহিনের কক্ষে গিয়ে তাকে পায়নি। এমনকি অফিসের একজন পিয়নও উপস্থিত ছিলেন না। দুদকের টিম আসার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি করে কার্যালয়ে আসেন কলেজ অধ্যক্ষ।
একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অভিযানকারী টিমের ছবি তুলে রাখার হুমকি দিচ্ছেন অধ্যক্ষ। তিনি কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। এসময়ে দুদক টিম তাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোক বলে পরিচয় দেন। তখন কলেজ অধ্যক্ষ পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আপনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আর আমি (অধ্যক্ষ) কি উড়ে এসেছি নাকি।’ এর কিছুক্ষণ পরে কলেজের অন্য চিকিৎসকরা আসতে শুরু করেন। সোয়া ১০টার দিকে চিকিৎসকরা অধ্যক্ষের কক্ষে এসে বায়োমেট্রিক হাজিরা দিতে শুরু করেন।
দুদক টিম চলে যাওয়ার পরে কলেজ অধ্যক্ষ শাহিন বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের টিম আমাকে তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা বলে অভিহিত করেন। আমার কক্ষে ঢুকে যে আচরণ করেছেন তা তারা করতে পারেন না। আমি জেনেছি তাদের কেউ একজন ডাক্তার দেখাতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এজন্য তারা এসেছেন চিকিৎসকরা কখন আসেন তা দেখার জন্য।’ তিনি বলেন, ব্যক্তিগত চেম্বার করা যাবে না এমন কোনো সরকারি নির্দেশনা আছে বলে জানা নেই।
তবে ডা. শাহিন চিকিৎসকদের দেরিতে অফিসের আসার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘তা ঠিক আছে। আবার অনেক সময় চিকিৎসকরা দেরিতে এসে দায়িত্ব পালন করে বিকেল ৫টার সময়ও যান। তা কিন্তু কেউ বলেন না। ডাক্তাররা বেশি দেরিতে আসলে তা আবার কেউ মেনে নেয় না।’
অভিযানের পর দুপুরে চিকিৎসকরা জরুরি সভা করে দুদক টিমের অসদাচরণের বিষয়ে আজ বুধবার বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারকে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।