উড়ন্ত সূচনার পরেও বাবরদের ১৩০ রানের লক্ষ্য আফগানিস্তানের

হজরতউল্লাহ জাজাই ও রহমানউল্লাহ গুরবাজ দিয়েছিলেন উড়ন্ত সূচনা। কিন্তু তাদের বিদায়ে থেমে যায় রানের গতি। শেষ পর্যন্ত সে গতি আর ফিরেনি। তাতে অল্প পুঁজির সম্মানজনক সংগ্রহই কেবল পায় আফগানিস্তান। শেষ ওভারে রশিদ খানের ছয়-চারে তারা ১৩০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে পাকিস্তানকে।

নাসিম শাহের প্রথম ওভারে আসেনি কোনো বাউন্ডারি। তবে রানের খাতায় ৪ রানই ঠিকই যোগ করেন দুই আফগান ওপেনার। এতে মনে হয়েছিল শুরুটা চাপেই রাখবে তারা। তবে দ্বিতীয় ওভারেই যেন ভোল পাল্টান রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও হজরতউল্লাহ জাজাই। হাসনাইনের করা সে ওভারে তারা আনেন ১৬ রান। পরের ওভারে নাসিম শাহও দেন ৭ রান। তৃতীয় ওভারে টানা দুই চার আসে জাজাইয়ের ব্যাট থেকে। তৃতীয় বলে পেতে হারিস রউফ পারতেন উইকেট। কিন্তু থার্ড ম্যানে দাঁড়িয়ে থাকা নাসিম শাহ ক্যাচ মিস করলে বেঁচে যান জাজাই।

তবে দুই বল পর ওভারের পঞ্চম বলেই প্রথম সাফল্য পায় পাকিস্তান। হারিসের ১৪৪ কিলো গতির ডেলিভারিটি উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন গুরবাজ। কিন্তু তার আগেই স্টাম্প উড়ে যায়। ফেরার আগে ১১ বলে ১৭ রানে একটি ইনিংস খেলেন। যা দুটি ছক্কায় সাজানো ছিল। পরের ওভারেই দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন হাসনাইন। তার করা গুড লেংথের বল সুইং হয়েছিল, সেটা টোকা দিতে চেয়েছিলেন জাজাই। কিন্তু অফ স্টাম্পে বল আঘাত করলে বিদায় নিতে হয় এ হার্ডহিটারকে। ১৭ বলে ২১ রানের ইনিংসটি ৪টি চারে সাজানো ছিল।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে কিছুটা সেট হওয়ার চেষ্টা করছিলেন করিম জানাত ও ইব্রাহিম জাদরান। রান তুলতে থাকেন মন্থর গতিতে। আর এসময়েই হারিয়ে যায় জাজাই ও গুরবাজের শুরু করে দেওয়া ঝড়ো গতি। করিম ও ইব্রাহিমের জুটি স্থায়ী ছিল ৩৮ বল। তাতে তারা সংগ্রহ করেন মাত্র ৩৫ রান। ১৭ বল খেলে ১৫ রান করে আউট হন করিম।

দুই জাদরানের দিকে তখন তাকিয়ে ছিলেন আফগান সমর্থকরা। তবে হতাশ করেছেন নাজিবউল্লাহ জাদরান। এক ছক্কায় আশা জাগালেও ১১ বলে ১০ রান করে ফিরে যান তিনিও। শাদাবের চতুর্দশ ওভারের শেষ বলটি লং অন দিয়ে উড়িয়ে মেরেছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা ফখর জামান তা লুফে নেন সহজেই। পরের ওভারেই প্রথম বলেই আঘাত হানেন নাসিম শাহ। তার দেওয়া অফ লেংথের ডেলিভারিটি নবির ব্যাটে এজ হয়ে সোজা স্টাম্পে গিয়ে আঘাত করে। তাতে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরতে হয় আফগান অধিনায়ককে।

শুরু থেকে মন্থর থাকা ইব্রাহিম ক্রিজ আকড়ে ধরে রাখলেও গতি তুলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন ৩৭ বলে ৩৫ রান করে। ২ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। হারিস রউফের এক্সট্রা বাউন্সের বলটি ব্যাকফুটে খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এজ হয়ে সোজা রিজওয়ানের গ্লাভসবন্দী হয় তা।

শেষের দিকে রশিদ খান কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানি বোলাররা ততক্ষণে ভালোই চেপে ধরেছিলেন তাদের। সে চাপ আর সামলে উঠতে পারেননি নিচের সারির আফগান ব্যাটাররা। শেষ ওভারে একটি ছয় এলেও তাতে শুধু সম্মানজনক লক্ষ্যই দিতে পেরেছেন তারা। হারিস রউফের করা ইনিংসের শেষ ওভারে ১০ রান সংগ্রহ করলে আফগানদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেট হারিয়ে ১২৯। রশিদ খান অপরাজিত থাকেন ১৮ রানে। ২ চার ও ১ ছক্কার মার ছিল তার ইনিংসটিতে। এছাড়া আজমতউল্লাহ ওমরজাই ১০ রানে অপরাজিত ছিলেন।

পাকিস্তানের হয়ে হারিস রউফ ২৬ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট। এছাড়া নাসিম শাহ, হাসনাইন, নেওয়াজ ও শাদাব খান একটি করে উইকেট শিকার করেন।