১৫০ ফুট উঁচু বিরল প্রজাতির একমাত্র ক্লোরোফর্ম বৃক্ষ আফ্রিকান টিকওক দাঁড়িয়ে আছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে।
সম্প্রতি দেশের বিরল প্রজাতির এ বৃক্ষে পচন ধরায় মরে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বন বিভাগ। তাদের দাবি, গাছটি মারা গেলে এ প্রজাতির বৃক্ষ এ দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ১৬৭ প্রজাতির বৃক্ষের মধ্যে ‘আফ্রিকান টিকওক’ প্রজাতির বৃক্ষ মাত্র একটি।
এ জাতীয় দুটি বিশাল বৃক্ষ ছিল এ বনে। দেশে এ প্রজাতির বৃক্ষ আর কোনো বনে নেই। ২০০৬ সালে একটি টিকওক বৃক্ষ ঝড়ে উপড়ে পড়ে যাওয়ার পর টিকে ছিল মাত্র একটি।
চিরহরিৎ এ বনে টিকে থাকা শেষ ‘আফ্রিকান টিকওক’ বৃক্ষের সব পাতা সম্প্রতি ঝরে পড়েছে। বৃক্ষের গোড়ায় ধরেছে পচন। এতে ধারণা করা হচ্ছে প্রাচীন এ বৃক্ষটি হয়তো মারাই গেছে। তবে একমাত্র টিকওক গাছটির পাতা ঝরে পড়া এবং গোড়ায় পচন দেখে বিষয়টি বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনিস্টিউটকে (বিএফআরআই) অবগত করা হয়েছে বলেন জানিয়েছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা।
বন বিভাগের সিলভিকালচার রিসার্চ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বহু চেষ্টা করেও বৃক্ষটি থেকে কোন বংশবিস্তার করা সম্ভব হয়নি। কারণ ‘আফ্রিকান টিকওক’ বৃক্ষটির কোন বীজ ছিল না। ফুল ধরলেও ঝরে পড়ে যেতো। কয়েক বছর পূর্বে ওই বৃক্ষটি থেকে কাটিং সংগ্রহ করা হলেও তাতে কোনো লাভ হয়নি।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৩০ সালে এক ব্রিটিশ কর্মকর্তা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে আসলে প্রাকৃতিক এ সংরক্ষিত বনের অধিকাংশ গাছ কেটে কৃত্রিমভাবে চাপালিশ, সেগুন, গর্জন, লোহাকাট, রক্তনসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে এসব বৃক্ষের মধ্যে ওই ‘আফ্রিকান টিকওক’ বৃক্ষ দুটির চারাও ছিল।
দেশের একমাত্র আফ্রিকান টিকওক বৃক্ষটি একসময় স্থানীয়দের কাছে ‘অজ্ঞান গাছ’ হিসেবেও পরিচিত ছিল। তবে এক বৃক্ষ গবেষণায় দেখা গেছে এই বৃক্ষে কার্বলিক এসিড ও ক্লোরোফর্মের উপস্থিতি থাকার কারণে বৃক্ষটির পাশে বেশিক্ষণ দাঁড়ালে অনেকেরই একটু ঘুম ঘুম ভাব তৈরি হতে পারে। আবার প্রতিক্রিয়া হিসেবে নাক ও গলা জ্বলা এবং হাঁপানির সম্ভাবনাও বিদ্যমান। দেশে একমাত্র লাউয়াছড়া বনের সারি সারি বিশাল আকৃতির নানা প্রজাতির বৃক্ষের মধ্যে বনবিট কার্যালয়ের সামনেই এতদিন এ বৃক্ষটি মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। পচে যাওয়া বৃক্ষটি হাজারো বৃক্ষের ভিড়ে বর্তমানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
লাউয়াছড়া বনবিট কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান বৃষ্টি মৌসুমে প্রায় ১৫০ ফুট উচ্চতা ও ১২ ফুট গোলাকারের বিরল প্রজাতির ‘আফ্রিকান টিকওক’ গাছের পাতা সম্প্রতি ঝরে গাছটির গোড়ায় পচন ধরেছে। ধারণা করা হচ্ছে গাছটি প্রায় মৃত।’
এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘লাউয়াছড়ায় মোট দুটি আফ্রিকান টিকওক বৃক্ষ ছিল। ২০০৬ সালে ঝড়ে একটি উপড়ে পড়ে যায়।
‘একমাত্র যে গাছটি উদ্যানে ছিল সেটিও পাতা ঝরে পড়া এবং গোড়ায় পচন দেখে বন গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (বিএফআরআই) অবগত করা হয়েছে। বৃক্ষটির বয়স সম্পর্কে কোন তথ্য-উপাত্ত নেই। তবে ধারণা করা হচ্ছে বৃক্ষটি প্রায় ৯০-৯৫ বছর আগের।’