আয়কর রিটার্ন দাখিলের সত্যতা যাচাই করতে এবং সেবা কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে একটি ডিজিটাল সিস্টেম চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআরের আয়কর বিভাগ গত ২১ আগস্ট ‘ট্যাক্স রিটার্ন ভ্যারিফিকেশন মডিউল’ নামে এই সিস্টেম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেশের যে কোনো জায়গা থেকে যে কেউ করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর দিয়ে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সত্যতা যাচাই করতে পারবেন। এজন্য এনবিআরের ওয়েবসাইটে ই-সেবা মেনুর আয়কর অপশনে গিয়ে রিটার্ন ভেরিফাই ক্লিক করে টিআইন নম্বর দিলেই দেখা যাবে সংশ্লিষ্ট টিআইনধারী আয়কর রিটার্ন জমা হয়েছে কি-না।
সরকারি-বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানের ৪০ ধরনের সেবা পেতে চলতি অর্থবছর (২০২২-২৩) থেকে আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৪ অনুযায়ী সেবা প্রদানের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আয়কর রিটার্ন স্লিপ যাচাই করতে হবে। যদি করদাতা নকল ট্যাক্স স্লিপ জমা দিয়ে সেবা গ্রহণ করেন এবং সেটা প্রমাণ হলে সেবা প্রদানকারীকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।
অর্থ আইন-২০২২ পাস হওয়ার পরে এনবিআরের করদাতাদের তথ্য ভা-ারে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় অনেক পরিষেবা প্রদানকারীর পক্ষে গোপনীয় ট্যাক্স রিটার্ন স্লিপ যাচাই করা কঠিন ছিল।
কর্মকর্তারা বলেছেন অসুবিধাগুলো সমাধান করার জন্য, একটি এনবিআর দল একটি কাস্টমাইজড পদ্ধতিতে রিটার্ন যাচাইকরণ মডিউলটি তৈরি করেছে যেখানে প্রমাণ হিসেবে একটি স্লিপ তৈরি হবে, অন্যান্য তথ্য প্রকাশের পরিবর্তে রিটার্ন জমা যাচাই করা যাবে।
এনবিআরের সদস্য (কর তথ্য, ব্যবস্থাপনা ও সেবা) মোহাম্মদ জাহিদ হাছান গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, অপশনটি ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার মানুষ তাদের ট্যাক্স রিটার্ন যাচাই করছেন। ব্যক্তি করদাতাদের রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে মডিউলটির ব্যবহার বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি।
ব্যক্তি পর্যায়ে করদাতাদের ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ১ জুলাই শুরু হয়েছে এবং চলবে চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
জাহিদ হাছান বলেন, করদাতারা নিজেরাই ভেরিফিকেশন স্লিপের একটি প্রিন্ট আউট নিয়ে সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে দেখাতে পারেন। তিনি বলেন, অন্তত ১০ লাখ মানুষের এই মডিউলের সেবা প্রয়োজন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা এবং সচল রাখা এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির সংযোগের মতো বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়ার জন্য ট্যাক্স রিটার্ন স্লিপ বাধ্যতামূলক।
এর আগে, বেসরকারি ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) ট্যাক্স রিটার্ন স্লিপ বাধ্যতামূলক জমা দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল। ট্যাক্স রিটার্ন স্লিপের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার উদ্যোগ ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের আবেদন করেছিল। ব্যাংকাররা তখন বলেন, দেশের গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী রেমিট্যান্স উপার্জনকারীদের আত্মীয়স্বজন নগদ অর্থ উত্তোলন বা ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় সমস্যায় পড়বেন। আর কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন রাজস্ব বোর্ডকে করদাতাদের সহায়তার জন্য বা সেবা কেন্দ্রগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। কারণ লাখ লাখ নতুন করদাতাকে চলতি অর্থবছরে রিটার্ন জমা দিতে হবে।