নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ৭ জন

আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আরও এক মাসের বেশি সময় বাকি থাকলেও মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় আর বাকি ৫ দিন। ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পাওয়া যেন সোনার হরিণ। জেলা ও মহানগরীর হেভিওয়েট ৭ নেতা ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানম-ি আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে চেয়ারম্যান পদের জন্য ২৫ হাজার টাকায় মনোনয়নপত্র কিনে জমা দিয়েছেন তারা।

মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুল হাই, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত শহিদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি চন্দন শীল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা এবং শ্রমিক লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মতিন মাস্টার। 

জানা গেছে, আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ সভায় ৬১ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক আবদুল হাই বলেন, ‘আমি দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। আমি আশাবাদী দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।’

বর্তমান প্রশাসক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। ইনশাআল্লাহ আমি আশাবাদী দল আমাকে আবারও মূল্যায়ন করবে।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি চন্দন শীল বলেন, ‘২০১৬ সালে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সার্কিট হাউজে সভা করে আমাকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী ঘোষণা করে। পরে সিটি মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী আনোয়ার হোসেন মনোনয়ন না পেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে নাটকীয়ভাবে তাকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনয়ন দেওয়া হয়।’

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো দলের বাইরে কোনো সিদ্ধান্তে যাইনি। গতবার দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সমর্থন দিয়েছিল এবং আমার একক নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। এবারও আমার দলীয় নেতাকর্মীরা সিদ্ধান্ত দিলে দল ও মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন চাইব।’ এদিকে জেলা পরিষদের সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদেও রয়েছেন অনেক প্রার্থী। গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য ১৫ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ছিলেন ৫ জন। কিন্তু এবার তা কমিয়ে করা হয়েছে ৫ জন ও ২ জন। ফলে এসব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বেড়েছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ মোট ভোটার সংখ্যা ৬১০ জন। ভোট হবে ইভিএমে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৫ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর এবং ভোটগ্রহণ আগামী ১৭ অক্টোবর।