বাংলাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

মারা গেছেন ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা বিশ^। যুক্তরাজ্যে ঘোষণা করা হয়েছে ১০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক। রানীর মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে বাংলাদেশও। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গতকাল শুক্রবার এক প্রজ্ঞাপনের জানায়, আগামী রবিবার পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় শোক পালনকালে দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

এ সময় রানীর বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

এদিকে ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে শোক ও তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও বিশিষ্টজনরা। গভীর কর্তব্যনিষ্ঠা ও সহনশীলতার পাশাপাশি রানীর রসবোধ ও সহৃদয়তার উল্লেখ করে তার প্রতি সম্মান জানিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় সিংহাসনে থাকা রানীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ। তার উত্তরসূরি রাজা চার্লসের কাছে পাঠানো শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘গভীরতম দুঃখের সঙ্গে এবং ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি বিশ্বের দীর্ঘতম সময় সিংহাসনে থাকা মহামান্য রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার শোকবার্তায় বলেন, ‘রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের আকস্মিক মৃত্যুতে আমি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে গভীর শোক ও দুঃখ জানাচ্ছি, এবং যুক্তরাজ্যের জনগণের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা ও সহানুভূতি জানাচ্ছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার স্ত্রী ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ব্রিটিশ দূতাবাসে গিয়ে প্রয়াত রানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান ও শোক বইতে স্বাক্ষর করেন। শোক বইতে বাইডেন লিখেন, ‘তিনি একজন রানীর চেয়েও বেশি কিছু। ইতিহাসের দীর্ঘ সময়কাল সংজ্ঞায়িত করেছেন তিনি।’

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০২১ সালে যুক্তরাজ্য সফরের কথা স্মরণ করে বাইডেন বলেন, তিনি তার বুদ্ধির ঝলক দিয়ে আমাদের মুগ্ধ করেছেন, উদারতা দিয়ে আমাদের আন্দোলিত করেছেন এবং উদারভাবে তার প্রজ্ঞা আমাদের সঙ্গে ভাগ করেছেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বর্তমান ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের মায়ের মৃত্যুতে তার প্রতি ‘গভীর সমবেদনা’ জানিয়েছেন। পুতিন বলেছেন, ‘বহু দশক ধরে দ্বিতীয় এলিজাবেথ যথাযথভাবে তার প্রজাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা এবং বিশ্ব মঞ্চে কর্র্তৃত্ব উপভোগ করেছেন।’

রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শি চিনপিং চীনের সরকার, জনগণ ও তার পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছে। রানীর মৃত্যু ব্রিটিশ জনগণের জন্য এক বিরাট ক্ষতি।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিটিশ রানীর মৃত্যুতে ‘বেদনাহত’ হওয়ার কথা জানিয়ে এক টুইটে বলেছেন, ‘রানী জনজীবনে ব্যক্তিত্বপূর্ণ মর্যাদা ও শিষ্টাচারের পরিচয় দিয়েছিলেন।’

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গভীর শোক প্রকাশ করে একজন ‘দয়ালু রানী’র কথা স্মরণ করেছেন যিনি ‘ফ্রান্সের বন্ধু ছিলেন’। রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের সব লাইট মধ্যরাতে বন্ধ করে রাখা হয়।

জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথকে ‘পথিকৃৎ ও লাখো মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা’ বলে বর্ণনা করেছেন। ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার’ পর জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক মেরামত করার ক্ষেত্রে রানীর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা রানীর মৃত্যুতে ‘গভীর শোক’ প্রকাশ করেছেন। রানীর মৃত্যু শুধু ব্রিটেনের জনগণের জন্যই ‘বিরাট ক্ষতি’ নয়, বিশ্বের জন্যও ক্ষতি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এক ভিডিও শোকবার্তায় অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথকে ‘জ্ঞানী ও অনুপ্রেরণাদায়ী পথপ্রদর্শক’ বলে বর্ণনা করে তিনি লাখ লাখ অস্ট্রেলিয়ানের জন্য ‘সান্ত্বনা, আশা ও উদ্দীপনা’ বয়ে এনেছিলেন বলে জানিয়েছেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, কানাডিয়ানদের প্রতি রানীর ‘সুস্পষ্ট গভীর ও স্থায়ী ভালোবাসা’ ছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, রানীর প্রতিশ্রুতি ও নিবেদন পুরো বিশ্বের জন্য মহান ও মূল্যবান উদাহরণ।

রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে আরও শোক প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো, কমনওয়েলথের মহাসচিব ব্যারনেস স্কটল্যান্ড, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি, সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং, ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো আদ্দো, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অনেকে।