টি-টোয়েন্টিতে স্পিনে হিমশিম খাচ্ছে এশিয়ানরা

এশিয়ান ক্রিকেট দল মানেই স্পিন নির্ভর। ভারত-পাকিস্তান ও শ্রীলংকান স্পিনাররা এক সময় দাপট দেখিয়েছেন ক্রিকেট বিশ্বে। তাদের ছাপিয়ে বাংলাদেশও একসময় হয়ে ওঠে স্পিনে অন্যতম শক্তিশালি দল। স্পিন জাদু দিয়ে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হয়েছেন সাকিব আল হাসান। বর্তমানে ক্রিকেটের নতুন পরাশক্তি আফগানিস্তানের অন্যতম অস্ত্র স্পিন। অথচ অবাক করার মতো হলেও সত্য, এই দেশগুলোর ব্যাটাররাই স্পিন বলে হিমশিম খাচ্ছেন বেশি। এশিয়া কাপে সেটাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে বেশি। যার প্রভাব পড়ছে তাদের স্ট্রাইক রেটে। ব্যতিক্রম শুধু ভারত। উল্টোদিকে এশিয়ার বাইরের দলগুলো স্পিনে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে অস্ট্রেলিয়া দলের স্পিনের বিরুদ্ধে স্ট্রাইক রেট ১৩১.০৪, পেস বলের বিরুদ্ধে যা আবার ১২৮। দক্ষিণ আফ্রিকার স্ট্রাইক রেট স্পিনে ১৪২.১৬, ইংল্যান্ডের আবার ১৩৪.১৫। ভিন্ন মহাদেশের এই তিন দেশের চেয়ে এশিয়ান ক্রিকেট দলগুলো পিছিয়ে স্পিনের স্ট্রাইকরেটে। শুধুমাত্র ভারতই ব্যতিক্রম হতে পেরেছে।

এশিয়ার দেশ আফগানিস্তান, যারা ক্রিকেটের নতুন পরাশক্তি হয়ে উঠছে। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে। ২০২১ বিশ্বকাপের পর থেকে সেই দলটির প্রতিপক্ষ দলের পেস বোলারদের বিরুদ্ধে স্ট্রাইক রেট ১৩১.৭১, স্পিনে যা মাত্র ১০৪.৩২। পেস বলে পাকিস্তানের স্ট্রাইকট রেট যেখানে ১৪১.৭১, সেখানে স্পিনারদের বিরুদ্ধে তা ১১২.৪১। পেসারদের বিরুদ্ধে শ্রীলংকা যেখানে ১২০.৬৬ স্ট্রাইক রেটে রান তুলতে পারে, সেখানে স্পিনারদের বিপক্ষে আসে মাত্র ১০৩.৫৮। বাংলাদেশ আবার দুই ক্ষেত্রেই পিছিয়ে। পেসারদের বিপক্ষে ১১৭.৫৮ রান তুললেও স্পিনারদের মোকাবেলার স্ট্রাইক রেটটা ১০৭.১৪। তবে এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম ভারত। পেসারদের বিপক্ষে ১৪৪.৯২ স্ট্রাইক রেটে রান তোলার পাশাপাশি স্পিনারদের বিরুদ্ধে ১৩৫.৯৭ স্ট্রাইক রান তুলতে পারেন লোকেশ রাহুলরা।

এশিয়ার বিধ্বংসী ব্যাটার ধরে যদি স্ট্রাইক রেট পর্যালোচনা করা যায়, তবে সেখানেও স্পিনে হিমশিম খাওয়ার বিষয়টি নজরে আসে। পাকিস্তানি ব্যাটার ফখর জামানের পেসারদের বিপক্ষে স্ট্রাইকট রেট ১৩০ হলেও স্পিনের বিরুদ্ধে তা মাত্র ১০৫। এমনকি ভারতীয় দলের দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও রোহিত শর্মাদের বেলাতেও একইজিনিস লক্ষ্য করা গেছে। পেসের বিরুদ্ধে রাহুলের স্ট্রাইক রেট যেখানে ১২৬, সেখানে স্পিনারদের বিপক্ষে তা মাত্র ৮৬.১১। অন্যদিকে পেসারদের বিপক্ষে ১৫৬.২৭ স্ট্রাইক রেটে রান তুলেন রোহিত শর্মা। কিন্তু স্পিনারদের বিপক্ষে সেটা ১১৫.৮৭ নেমে আসে।

এই পরিসংখ্যানেই বোঝা যায় স্পিনে কতটা পিছিয়ে এশিয়ান দলগুলো। তাদের তুলনায় ভিন্ন মহাদেশের দলগুলো স্পিনে বেশি রান তুলতে পারছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ার দেশরা স্পিনে সুইপ, রিভার্স-সুইপ এবং স্কুপ শটগুলো কম খেলে বলে স্পিানরদের বিপক্ষে রান আসছে না।

ক্রিকেট বিশ্লেষক সৈয়দ আবিদ হাসান সামি ফেসবুকে স্পোর্টস গুরুকুলের পেজে একটি ভিডিওতে বলেছেন, ‘আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বোলাররা অনেক আর্থডক্স ডেলিভারি দেন, অনেক টাইট বোলিং দিতে ফিল্ডাররা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন। অনেক ক্ষিপ্রতার সঙ্গে তারা ফিল্ডিং করেন, তাই এই যুগের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে গতানুগতিক উপায়ে রান তোলা একটু কঠিন। এক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটাররা গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে শট খেলে রান তোলার চেষ্টা করেন। সেখানে তারা সুইপ, রিভার্স-সুইপ ও স্কুপ শটগুলো বেশি খেলেন। যা উপমহাদেশের ব্যাটাররা এসব শট কমই খেলেন।’

তিনি উপমহাদেশের ব্যাটারদের শট সিলেকশনের উদাহরণ দিয়ে এই ক্রিকেট বিশ্লেষক বলেছেন, ‘রিশাভ পান্থ রিভার্স-সুইপ খেলতে গিয়ে ৪০ শতাংশ সময় আউটই হয়ে যান। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে ভিরাট কোহলি এখন পর্যন্ত মাত্র দুইটা সুইপ শট খেলেছেন। এ সময়ে বাবর আজম এই শট খেলেছেন মাত্র তিনবার। এতেই বোঝা যায় আধুনিক ক্রিকেটে স্পিনারদের মোকাবেলার যে কৌশল তা এশিয়ানরা এখনও পুরোপুরি রপ্ত করতে পারেনি।’

এশিয়া অনেকটা বেসিক নির্ভর ক্রিকেট উল্লেখ করে আবিদ হোসাইন বলেন, ‘আমরা বেশিরভাগ সময় বাংলাদেশকে দোষ দেই। টাইগাররা গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে শট খেলতে পারে না। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে শুধু বাংলাদেশই না, এশিয়ার প্রত্যেকটা দেশই স্পিনে পেসের চাইতে দুর্বল। পেস বলে তারা অনেকটাই ভালো করেছে।’