রেকর্ড বেড়েছে ইউরোর নীতি সুদহার

এক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে পুরো বিশে^র মূল্যস্ফীতি বেসামাল। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনীতিও বেশ আলোচনায়। বিশে^র অন্যান্য দেশের মতো এবার রেকর্ড হারে নীতি সুদ বৃদ্ধি করেছে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি)। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। খবর বিবিসির।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব দেখা যাচ্ছে জ্বালানির দামে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এর প্রভাব সবকিছুতেই অনুভূত হচ্ছে। ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, বেকারের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকাসহ অনেক পশ্চিমা দেশের আর্থিক ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিক জিডিপি বা মোট উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। 

১৯৯৯ সালে চালু হওয়া ইউরোর ব্যবহারকারী ১৯টি দেশ আর কখনোই নীতি সুদহার এতটা বাড়তে দেখেনি। অর্থাৎ ৭৫ বেসিস পয়েন্ট হারে নীতি সুদহার এর আগে কখনো বাড়েনি। ইসিবির প্রধান ক্রিস্টিন ল্যাগার্দের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী দিনেও সুদ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।

ল্যাগার্দে জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি, অর্থাৎ বিদ্যুতের খরচ এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে চাহিদা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার ওপর সুদ বাড়লে মানুষ আরও বেশি করে হাত গুটিয়ে নেবে। এর জেরে বছরের বাকি মাসগুলোতে অর্থনীতির গতি শ্লথ হতে পারে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ায় রাশিয়ার ওপর তারা নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর জবাবে রাশিয়া ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ হ্রাস করেছে। আপাতত যা পুরোপুরি বন্ধ আছে। ফলে ইউরোপে গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানির দাম আকাশ ছুঁয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কিছুর জেরে ইউরোপে মন্দার আশঙ্কাও থাকছে।

শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়ন নয় আমেরিকার শীর্ষ ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভও একই পথে হাঁটছে। প্রতি প্রান্তিকেই তারা নীতি সুদহার বৃদ্ধি করছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে আগস্টে ইউরোপে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ। কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ঘর গরম রাখার জন্য জরুরি প্রাকৃতিক গ্যাসের খরচ বেড়েছে ১০ গুণের বেশি। এ অবস্থায় ১১ বছর পর গত জুলাই মাসে প্রথম নীতি সুদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় ইসিবি। এরপর এত বেশি হারে সুদ বাড়াল তারা।