ইউএস ওপেন জিতে টেনিসের সর্বকনিষ্ঠ রাজা হলেন আলকারাস

টেনিসের সঙ্গে সম্পর্ক তার ছোটোবেলা থেকে। আর সে সময়তেই স্বপ্ন দেখতেন, একদিন ইউএস ওপেনের শিরোপা উঠবে তার হাতে। তবে সেটা যে মাত্র টিন এজেই ধরা দেবে, আর তাতে যে ইতিহাস গড়া হয়ে যাবে সেটা নিশ্চয়ই তিনি সম্ভব হবে বলে ভাবেননি কোনোদিন। কিন্তু ২৩ বছর বয়সী নরওয়ের তারকা ক্যাম্পার রুদকে হারিয়ে ১৯ বছর বয়সী স্পেনিশ তারকা কার্লোস আলকারাস শিরোপা জিতেন ইউএস ওপেনের। এতেই নিশ্চিত হয় ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান আরোহন করা।

ইউএস ওপেনের পুরুষ এককের ফাইনালে রবিবার রাতে টেনিসের নতুন রাজা আলকারাস জিতে যান ৬-৪, ২-৬, ৭-৬ (১), ৬-৩ গেমে।

প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা আর এক নম্বরে ওঠা, ফাইনালে একই হাতছানি ছিল দুজনের সামনেই। অভিজ্ঞতায় কিছুটা এগিয়ে ছিলেন রুদ। কিন্তু এবারের টুর্নামেন্টের চমক আলকারাস তার বিদ্যুচ্চমকের মতো টেনিসের ঝলকানিতে ফাইনালেও অসহায় করে রাখলেন প্রতিপক্ষকে।

১৯৭৩ সালে এটিপি র‌্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর এক নম্বরে ওঠা প্রথম টিন এজ খেলোয়াড় আলকারাস। এতদিন সর্বকনিষ্ঠ এক নম্বর ছিলেন লেটন হিউয়িট। ২০০১ সালে ২০ বছর বয়সে শীর্ষে পা রেখেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান এই তারকা।

প্রথম সেটে দারুণ খেলে মোটামুটি সহজেই জিতে নেন আলকারাস। তবে দ্বিতীয় সেটে তার সার্ভে গড়বড় হতে শুরু করে। রুদও ঘুরে দাঁড়ান দারুণভাবে। তৃতীয় সেটেও লড়াই জমে ওঠে বেশ। কিন্তু টাইব্রেকে স্নায়ুর লড়াইয়ে উতরে যান আলকারাস। পরের সেটে তার দাপুটে পারফরম্যান্সের সামনে টিকতে পারেননি রুদ।

ফাইনালে জয় নিশ্চিত হতেই কোর্টে শুয়ে পড়েন আলকারাস। দু হাতে মুখ ঢেকে কিছুটা সময় নিয়ে যেন বোঝার চেষ্টা করেন, কী করে ফেলেছেন তিনি! ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে জবাব দেন দর্শকের অভিনন্দনের। লাফিয়ে নেট টপকে আলিঙ্গনে জড়ান প্রতিপক্ষকে। এরপর ফটোগ্রাফারদের পেরিয়ে গ্যালারিতে উঠে ছুটে যান নিজের বক্সে, যেখানে তখন উৎসবে মেতেছে তার সাপোর্ট স্টাফরা।

ট্রফি জয় শেষে তিনি বলেন, ‘ছেলেবেলা থেকেই এমন কিছুর স্বপ্ন দেখে আসছি আমি… বিশ্বের এক নম্বর হব, গ্র্যান্ড স্ল্যামের শিরোপা জিতব। আমার পরিবার, আমার দলের সঙ্গে যে কঠোর পরিশ্রম করেছি, সেটিরই পুরষ্কার এই ট্রফি। আমার বয়স স্রেফ ১৯। কঠিন সব সিদ্ধান্তগুলি তাই আমার পরিবার ও দলই নিয়ে আসছে। এই ট্রফি আমার জন্য সত্যিই খুব, খুবই স্পেশাল।’

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আলকারাসকে টুইটারে অভিনন্দন জানান স্বদেশী কিংবদন্তি রাফায়েল নাদাল। আলকারাস তাতে আপ্লুত, ‘আমার কেবল একটি হলো, তার আছে ২২টি (গ্র্যান্ড স্ল্যাম)। তবে আমি এখন লাইনে দাঁড়ালাম!’

সাফল্যের ছোঁয়া পেয়ে উজ্জীবিত আলকারাস সামনে পথচলায় পৌঁছতে চান নতুন উচ্চতায়, ‘অনেক অনেক সপ্তাহ ধরে আমি শীর্ষে থাকতে চাই আশা করি, অনেক বছর ধরে থাকব। এই দুই সপ্তাহ ছিল অসাধারণ। তবে আমি আবার কঠোর পরিশ্রম করব, এমন সাফল্য আরও পেতে ঘাম ঝরাতে থাকব।’

নতুন চ্যাম্পিয়নের আবির্ভাব দিয়ে শেষ হলো দর্শক রেকর্ডের ইউএস ওপেন। ২৩ হাজার ৮৫৯ দর্শক ধারণ ক্ষমতার আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামের প্রতিটি সেশন এবার ছিল পরিপূর্ণ। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথমবার হলো এমন কিছু। দুই সপ্তাহের আসরের মূল পর্বে এবার মাট দর্শক ছিল ৭ লাখ ৭৬ হাজার ১২০ জন। যা ছাড়িয়ে যায় ২০১৯ আসরের ৭ লাখ ৩৭ হাজার ৮৭২ দর্শকের রেকর্ডকে।