রুশ বাহিনীর হাত থেকে খারকিভের উত্তরাঞ্চলের অনেকটাই দখলমুক্ত করার দাবি করেছে ইউক্রেন। দেশটির সেনাবাহিনী প্রধানের দাবি, ইতিমধ্যে তারা তিন হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি জায়গা রুশ দখলমুক্ত করেছে। খারকিভের প্রধান ঘাঁটি ইজিয়ুম হাতছাড়ার হওয়ার কথা স্বীকারও করেছে রাশিয়া। যা নিয়ে রাশিয়ার জাতীয়তাবাদী ও মিত্রদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। সমালোচনা হচ্ছে দেশের বাইরেও। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (সিআইএ) প্রধান উইলিয়াম বার্নস বলেছেন, ইউক্রেনে পুতিনের অভিযান ইতিমধ্যে ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে দেশের উত্তর-পূর্বের খারকিভ প্রদেশের অনেকাংশ দখলমুক্ত করায় সেনাদের প্রশংসা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যেটিকে তিনি ছয়মাসের যুদ্ধে তার বাহিনীর সম্ভাব্য সাফল্য উল্লেখ করে বলেন, যদি কিয়েভ আরও শক্তিশালী অস্ত্র পায় তবে এই শীতে ভূমি দখলমুক্ত করার গতি আরও বাড়বে। গতকাল ইউক্রেনের চিফ কমান্ডার জেনারেল ভ্যালেরি জালুজনি জানান, তার বাহিনী খারকিভের দিকে শুধুমাত্র দক্ষিণ ও পূর্বদিকেই অগ্রসর হচ্ছে না, উত্তর দিকেও অগ্রসর হচ্ছে। আর সেদিকে আর ৫০ কিলোমিটার গেলেই রাশিয়ার সীমান্ত। এ মাসের শুরু থেকে গত ১০ দিনে ইউক্রেন সেনাবাহিনী দেশটির তিন হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা শত্রুর দখলমুক্ত করেছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে রবিবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, রুশ বাহিনী খারকিভ অঞ্চলে ইউক্রেন সেনাবাহিনীর অবস্থানে আকাশ হামলা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও কামান নিক্ষেপ করেছে। তবে রয়টার্স জানায়, একদিন আগেই ইজিয়ুম নগরীতে বড় ধরনের পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে রুশ বাহিনীকে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণের মুখে সেখানে হাজার হাজার রুশ সেনা তাদের গোলাবারুদ এবং সামরিক সরঞ্জাম পেছনে ফেলেই পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। ইজিয়ুম নগরীতে পাওয়া জয় রাজনৈতিকভাবে জেলেনস্কির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিনি চান ইউরোপ ইউক্রেনের পেছনে একজোট থেকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সমর্থন অব্যাহত রাখুক।
ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের প্রধান ঘাঁটি ইজিয়ুম রুশ বাহিনীর হাতছাড়া হওয়ায় ক্ষেপেছে রাশিয়ার জাতীয়তাবাদীরা। ইউক্রেনের যুদ্ধে চূড়ান্ত জয় নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
রয়টার্স জানিয়েছে, টেলিগ্রামে পোস্ট করা ১১ মিনিট দীর্ঘ এক অডিও বার্তায় পুতিনের মিত্র চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ ইজিয়ুম হারানোর কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর পক্ষ হয়ে কাদিরভের বাহিনী যুদ্ধের একেবারে সম্মুখের সারিতে আছে। তবে অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে না বলে স্বীকার করেছেন তিনি। দেশটির আরও বেশ কয়েকজন জাতীয়তাবাদী ভাষ্যকার ইউক্রেন যুদ্ধপরিস্থিতি নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ ঝেড়েছেন। এসব বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।