মুখ বাঁকা রোগের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা

আমাদের ৭ নম্বর ক্রেনিয়াল নার্ভটিকে ফেসিয়াল নার্ভ বলে। যখন এটি আংশিক বা সম্পূর্ণ প্যারালাইজড হয়ে যায় তখন তাকে ফেসিয়াল প্যারালাইসিস বা পালসি বলা হয়। যেকোনো বয়সের নারী ও পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। তবে পুরুষের তুলনায় নারীদের এ রোগে বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়।

কেন হয় : বেলস পালসি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো

 ভাইরাল ইনফেকশন মধ্যকর্ণে ইনফেকশন  ঠা-াজনিত কারণ  আঘাত পাওয়ার ফলে  মস্তিষ্কের স্ট্রোকজনিত কারণ  ফেসিয়াল টিউমার  কানের অপারেশন-পরবর্তী ফেসিয়াল নার্ভ ইনজুরি ইত্যাদি।

লক্ষণ :  আক্রান্ত রোগীর মুখ একদিকে বাঁকা হয়ে যায়।  আক্রান্ত পাশের চোখ বন্ধ হয় না। আক্রান্ত পাশের চোখ দিয়ে পানি পড়ে। কুলি করতে গেলে অন্য পাশে চলে যায়। খাবার গিলতে কষ্ট হয়। কপাল ভাঁজ করতে পারে না। অনেক সময় কথা বলতে কষ্ট হয়। পানি পান করতে কষ্ট হয়। নাক কুঁচকাতে কষ্ট হয়। ফুঁ দিতে পারে না।। মুখ ভেংচি দিতে পারে না।  মুখের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

রোগ নির্ণয় : ফিজিওথেরাপি কনসাল্ট্যান্ট ক্লিনিক্যালি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ও রোগীর ইতিহাস জেনে রোগ নির্ণয় করতে পারেন। তবে অনেক সময় কিছু প্যাথলজিক্যাল ও রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে।

চিকিৎসা

একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর অবস্থা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি করে থাকেন।

মেকানিক্যাল থেরাপি :  আই আর আর,  প্যারাফিন ওয়াক্স থেরাপি,  আলট্রা সাউন্ড থেরাপি,  ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশন।

ম্যানুয়াল থেরাপি :স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ অব দ্য ফেসিয়াল মাসেলস, প্রোপ্রিওসেপটিভ নিউরো মাস্কুলার ফ্যাসিলিটেশন, হোল্ড রিলাক্স এক্সারসাইজ অব দ্য ফেসিয়াল মাসেলস, অ্যাক্টিভ ও প্যাসিভ এক্সারসাইজ অব দ্য ফেসিয়াল মাসেলস, স্ট্রেন্থদেনিং এক্সারসাইজ অব দ্য ফেসিয়াল মাসেলস, ফাংশনাল রি-এডুকেশন এক্সারসাইজ অব দ্য ফেসিয়াল মাসেলস,  স্পিচ রি-এডুকেশন থেরাপি,  ব্যালুনিং এক্সারসাইজ,  রিঙ্কলিং এক্সারসাইজ ইত্যাদি।

রোগীর জন্য জরুরি : চিকিৎসা চলাকালীন রোগীর কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। ঠা-া আবহাওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। আইসক্রিম ও ফ্রিজের ঠা-া খাবার একেবারেই খাওয়া যাবে না। বাইরে বা রোদে গেলে চোখে সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে, যেন আক্রান্ত চোখে ধুলাবালি ঢুকতে না পারে। রাতে ঘুমানোর সময় আক্রান্ত চোখের ওপর রুমাল বা নরম কাপড় দিয়ে রাখতে হবে, যাতে কোনো কিছু চোখের মধ্যে না পড়ে। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করতে হবে। তাহলেই রোগী অনেকটা ভালো থাকবে।