বাগেরহাটের কচুয়ায় এক দশক আগে আয়না আক্তার (১৭) নামে এক কিশোরীকে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক তপন রায় আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আমজাদ খান (৪৮) কচুয়া উপজেলার খলিশাখালী উত্তরপাড়া গ্রামের প্রয়াত দলিল উদ্দিন ওরফে ধলু খানের ছেলে।
নিহত আয়না আক্তার একই উপজেলার গাবরখালি গ্রামের হোসেন আলির মেয়ে।
মামলার নথির বরাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সীতা রাণী দেবনাথ জানান, ২০১২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জেলার কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের বাবলু নামের এক ব্যক্তির সুপারি বাগান থেকে অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় ওইদিন কচুয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মিয়ারব হোসেন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা ওই নারীর বিস্তারিত পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
ওই বছরের শেষের দিকে পুলিশ আমজাদ খানকে গ্রেপ্তার করলে অজ্ঞাতনামা ওই নারীর পরিচয় মেলে। পরিচয় মেলা আয়নার সাথে মুঠোফোনে আমজাদের পরিচয় হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে আমজাদ আয়নার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপর আয়না তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে বিবাহিত আমজাদ অস্বীকৃতি জানান। এই ঘটনা জানাজানি হলে আমজাদের সংসার ভেঙে যেতে পারে এই আশঙ্কায় কৌশলে আয়নাকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে দূরের একটি বাগানে মরদেহ ফেলে রেখে আসেন বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দেন।
প্রায় এক বছর পর ২০১৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কচুয়া থানার এসআই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির আমজাদ খানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। আদালতের বিচারক ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আয়না আক্তার হত্যার সঙ্গে আমজাদের জড়িত থাকার ঘটনা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ সেই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন বিধান চন্দ্র রায়।