গুরুতর অর্থনৈতিক সমস্যা কাঁধে নিয়ে গত বছর ক্ষমতা গ্রহণ করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। পশ্চিমাদের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করতে না পারা ও অর্থনৈতিক দুর্দশা সামাল দিতে ব্যর্থতা তাকে এই এক বছরে বেশ অজনপ্রিয় করেছে। জীবনযাপনের ব্যয় মেটাতে অস্থির ইরানিরা রাইসির বিরুদ্ধে রাস্তায়ও নেমেছেন। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
সমস্যায় জর্জরিত ইরান
এক বছর আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন ইরানের কট্টরপন্থি ধর্মীয় নেতা ইব্রাহিম রাইসি। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির একজন প্রেসিডেন্টের জন্য সম্ভবত এই এক বছর ছিল সবচেয়ে অনিশ্চিত ও উদ্বেগের বছর। ক্ষমতা গ্রহণের শুরু থেকেই বেশ কয়েকটি গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হন রাইসি। এসব সমস্যা তার নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতির ফলে সৃষ্ট না। সমস্যাগুলো উপেক্ষা করা বা দ্রুত সমাধান করাও রাইসির পক্ষে সম্ভব ছিল না। একদিকে উদীয়মান শক্তি চীন ও রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারের পরিপ্রেক্ষিতে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার উত্থান, অন্যদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির রাজনীতি ও অর্থনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া ইরানের জনগণের সঙ্গে শাসকগোষ্ঠীর দূরত্ব বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক স্থবিরতা, তরুণ ও নারীদের মধ্যে সামাজিক স্বাধীনতার দাবিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ক্ষমতা গ্রহণের এক বছর ব্যতিব্যস্ত ছিলেন রাইসি। ২০২১ সালে রাইসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দপ্তর (রাষ্ট্রপতি, বিচার বিভাগ ও সংসদীয়) রক্ষণশীল নেতাদের দখলে চলে যায়। ধারণা করা হয়েছিল, এই তিন দপ্তরের দায়িত্বে একই মতাদর্শের ব্যক্তিরা থাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা হলেও স্থিতিশীল হবে। কিন্তু আদতে তা হয়নি। তবে ইব্রাহিম রাইসির আমলে রাষ্ট্রপতি, বিচার ও সংসদীয় এই তিন দপ্তরের মধ্যে উত্তেজনা কমেছে, যা সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির আমলে প্রকট ছিল। অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে রাইসি এখন পর্যন্ত ব্যর্থ। আর এজন্য তাকে ইরানের চার দশকের ইতিহাসে অন্যতম সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চলমান নিষেধাজ্ঞা ও পরমাণু বিষয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে অমীমাংসিত আলোচনা ইরানি মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। এতে ইরানের জনগণ বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনে দুর্যোগ নেমে আসে। রাইসির এক বছরের শাসনামলে তার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে যারা বিক্ষোভ করেছে, তারাই সবাই মূলত এই দুই শ্রেণির। রাইসির নির্বাচনী প্রচারণায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অঙ্গীকার থাকলেও সেসব কোনোটিই পূরণ না হওয়ায় জনগণ ও রাইসির নেতৃত্বাধীন সরকারের মধ্যে বিভেদ চরমে পৌঁছেছে।
পররাষ্ট্রনীতি
গত এক বছরে গুরুত্বপূর্ণ যে তিনটি বিষয় রাইসিকে ভাবিয়েছে বেশি, তার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রনীতি একটি। দেশটির পররাষ্ট্রনীতি এই ১২ মাসে আগে বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার দিকে ঝোঁকে। ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা কাজে লাগাতে চাইছে ইরান। দেশটি মনে করছে, বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে অপশ্চিমাদের উত্থান তাকে আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে সহযোগিতা করবে। আবার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে নিজেকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রকেও হাতছাড়া করতে চাইছে না ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইরানের ওপর তার পূর্বসূরিদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেননি। ইরানের অর্থনীতি যে বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার জন্য প্রধানত দায়ী পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা। রাইসি চেষ্টা করছেন, বাইডেনকে চাপ দিয়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলতে, নিদেন পক্ষে শিথিল করতে। তবে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় উভয় পর্যায়ে ব্যাপক আকারে দুর্নীতি ও সরকারি কর্মকর্তাদের অব্যবস্থাপনা দূর করতে রাইসিকে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গত এক বছরে নিতে দেখা যায়নি।
ইরানের ‘পূর্বের দিকে তাকাও’ নীতি দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসসহ রক্ষণশীলরা অনুসরণ করে আসছে। দেশটির ওপর পশ্চিমের চাপ ঠেকাতে প্রাচ্যের সঙ্গে বন্ধুত্ব জোরদার করা এই মুহূর্তে তাদের লক্ষ্য। এক্ষেত্রে রাইসি গত এক বছরে কিছুটা সফল। তার নেতৃত্বে ইউরেশীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংস্থা সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সদস্যপদ পেয়েছে ইরান। এ ছাড়া চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে দুটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা চুক্তি করেছেন রাইসি। এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য মোকাবিলায় আঞ্চলিক নেতা হিসেবে শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে ইরানের।
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পর তেহরান আশা করেছিল, ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের কঠোর নীতি বাতিল করবেন নতুন প্রেসিডেন্ট। তেহরানের এই আশা পূরণ হয়নি। গত প্রায় দুই বছরে ইরান বিষয়ে বাইডেন প্রশাসনের অবস্থানে খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায়নি। এ ছাড়া ইরানের পরমাণুবিষয়ক উচ্চাকাক্সক্ষায় ওয়াশিংটনের অবস্থানেরও কোনো বদল দেখেনি তেহরান। গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফলপ্রসূ পরমাণু চুক্তি করতে না পারায় রাইসির ওপর হতাশ ইরানের জনগণ। অনেক ইরানি মনে করেন, রাইসির ধীরে চলো নীতির কারণে এখন পর্যন্ত পশ্চিমাদের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি সম্পাদিত হয়নি।
গত এক বছরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইরানের উদ্দেশে উসকানিমূলক বক্তব্য দিলেও সত্যিকার অর্থে ওই দুই পক্ষ থেকে আগ্রাসনের হুমকি পায়নি রাইসির নেতৃত্বাধীন সরকার। তার আগে দেশের পরমাণু কেন্দ্রে বেশ কয়েকটি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহর হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করে তেহরান। ফাখরিজাদেহ হত্যার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করলেও কোনো ধরনের প্রতিশোধ নেয়নি ইরান। তবে লেবাননের শিয়া রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে সমর্থন অব্যাহত রেখেছে ইরান। পাশাপাশি সিরিয়ায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে তেহরান। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কয়েক দশক দীর্ঘ সংঘাত ও উত্তেজনা কমাতে হবে রাইসিকে। বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক উন্নয়ন জরুরি। ভিয়েনায় ভবিষ্যতে কখনো পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তেহরানকে অবশ্যই এরপর বিশ্বকে বিশেষ করে পশ্চিমা দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্র দেশগুলোকে আশ্বস্ত করতে হবে এই বলে যে, আসন্ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ইরানের আঞ্চলিক আচরণেও আক্ষরিক অর্থে পরিবর্তন আসবে। ইরানের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠনে এই আশ্বাস খুবই জরুরি।
বেহাল অর্থনীতি
গত বছর নির্বাচনী ইশতেহারে রাইসি ওয়াদা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার হাত থেকে ইরানের অর্থনীতিকে বাঁচাবেন। ইরানিরা দেখলেন, নিষেধাজ্ঞা তো ওঠেইনি, বরং অর্থনীতির অবস্থা আরও বিপর্যস্ত। মুদ্রাস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি ও অপরিবর্তিত মজুরি ইরানিদের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। অর্থনৈতিক দুর্দশা ও সরকারের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে তারা চলতি বছরে বেশ কয়েকবার বিক্ষোভে শামিল হলেও রাইসি স্মিতহাস্যে প্রতিবার ইরানিদের অভয় দিয়ে বলেছেন, দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ বেশ উজ্জ্বল।
রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে ইরানের জনগণের ওপর করের বোঝা বাড়ছে তো বাড়ছেই। দেশটির জাতীয় বাজেটে আয়করের অনুপাত গড়ে ৬১ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া পেশাজীবীদের আয়কর ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঋণ পরিশোধ করতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে ইরান সরকার। জাতীয় সঞ্চয় হিসাবের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চীনের কাছে বিপুল ছাড়ে তেল বিক্রি করছে ইরান। চলতি অর্থবছর শেষে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের বাজেট ঘাটতি প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট দেখা দিলে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ ইরান এসব জ্বালানি বাইরের দেশে রপ্তানি করতে পারত এবং এর মাধ্যমে বিশ্বে প্রধান তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক হিসেবে ইরান তার হারানো অবস্থান ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশা কিছুটা হলেও মেটাতে পারত। কিন্তু এই সুযোগ ইরান সরকার কাজে লাগাতে পারেনি কারণ পশ্চিমাদের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি প্রক্রিয়ায় গত এক বছরে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ইরানের ক্রুড ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য শোধনাগারেই পড়ে আছে। পরমাণু চুক্তি নিকট ভবিষ্যতে হতে পারে এমনটাও মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা কারণ চুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা প্রদান ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে নাছোড়বান্দা ইরানের পক্ষের সমঝোতাকারীরা আর যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত মানতে রাজি না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে রাইসির সমর্থকরা অবশ্য তার মতোই দেশের অর্থনীতি নিয়ে বেশ আশাবাদী। বেশ গর্বের সঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলতি বছরের এপ্রিল মাসের প্রতিবেদন ইরানিদের সামনে তুলে ধরছেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান বর্তমানে বিশ্বের ১৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ, যার জিডিপি ১.৭৪ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্য দিয়ে দেশটির অর্থনীতি মেক্সিকো, সুইজারল্যান্ড ও সৌদি আরবের অর্থনীতিকেও ছাড়িয়ে গেছে। সমালোচকরা অবশ্য রাইসি ও তার সমর্থকদের তৃপ্তির ঢেঁকুর দেখে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। তাদের ভাষ্য, আইএমএফের ওই প্রতিবেদন ইরানের সরকারি বিনিময় হার প্রতি ডলারে ৪২ হাজার রিয়ালের (ইরানি মুদ্রা) ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, যেখানে বেসরকারি বিনিময় হার প্রতি ডলারে তিন লাখ রিয়াল।
ইরানিদের কৃচ্ছ্রসাধনা
সরকারি ও বেসরকারি বিনিময় হারের মধ্যে সমন্বয় সাধন দুরূহ কাজ। চলতি বছরের মে মাসে রাইসি সরকার গ্র্যান্ড ইকোনমিক সার্জারি নামে এক পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী গম, ময়দাসহ বেশির ভাগ খাদ্যদ্রব্যের ওপর থেকে ভর্তুকি কমানো হয়। ফল যা হওয়ার তাই হয়। প্রতিটি খাদ্যদ্রব্যের মূল্য সীমা ছাড়ায়। রাইসি সরকারের এই পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে ইরানিদের প্রধান খাদ্য রুটির ওপর। পাশাপাশি বাড়ে পাস্তা ও চালের মূল্য। রান্নার তেল, পোলট্রি, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্য এতটাই বেড়ে যায় যে, নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ এসব কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের অত্যধিক বৃদ্ধির কারণে এই দুই শ্রেণির ইরানিরা কম খেতে বাধ্য হচ্ছে। ইরানের ডেইরি শিল্প সমিতির পক্ষ থেকে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দুধ, পনির ও দইয়ের মতো দুগ্ধজাত পণ্য খাওয়া গত বছরের তুলনায় এ বছর ২০ শতাংশ কমে গেছে। এ ছাড়া রেড মিট খাওয়াও অনেকে কমিয়ে দিয়েছে, যার হার প্রায় ৫০ শতাংশ। চলতি বছরের জুনে ইরানের মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৫২.৫ শতাংশ। সে সময় খাদ্যের মূল্য বাড়ে ৮২.৬ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড ইকোনমিক্স বিভাগের অধ্যাপক স্টিভ হ্যাঙ্ক জানান, ইরানি রিয়াল এ মুহূর্তে বিশ্বের ১০টি সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার একটি। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালে ইরানিদের মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৮২২ ডলার। একই বছরে ইরাকের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ৩ হাজার ২২২ ডলার এবং তুরস্কের ছিল ৭ হাজার ১৩৫ ডলার। ২০২০ সালে ইরানিদের মাথাপিছু ক্রয়ক্ষমতা একইভাবে অনেক কমে যায়। ইরানে যাতায়াত খরচ তুর্কমেনিস্তান, মালদ্বীপ ও লিবিয়ার চেয়ে বেশি।
জীবনযাপনের ব্যয় মেটাতে গিয়ে নাভিশ্বাস ওঠা ইরানের শিক্ষক, নার্স, করোনা মহামারী প্রতিরোধের ফ্রন্টলাইন কর্মী, গাড়ির চালক থেকে শুরু করে শ্রমিকরা অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের জন্য দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের দায়ী করে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করে। অর্থনীতির এই বেহাল দশার জন্য রাইসির অর্থ মন্ত্রণালয়ের বেশির ভাগ অনভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্টাডিজের পরিচালক জোশুয়া ল্যানডিস বলেন, ‘ইরান কেবল একটি নয়, নানা সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পাচ্ছে না দেশটির বর্তমান সরকার। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতি সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। তবে পানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও বৈশ্বিক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিও ইরানের অর্থনীতির ওপর ব্যাপক আঘাত হেনেছে। নিষেধাজ্ঞা না উঠলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুজ্জীবিত বা মুদ্রা ও মুদ্রাস্ফীতি স্থিতিশীল করা কঠিন হয়ে পড়বে রাইসি সরকারের।’