কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধির ফলে তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে নদের অববাহিকার বাসিন্দারা।
গত দুই সপ্তাহে উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মুসুল্লি পাড়া, সরকার পাড়া, ব্যাপারী পাড়া, রসুল পুর ও বথুয়াতলী গ্রামের প্রায় ১৫০টি বাড়ি এবং শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন কবলিতরা আশ্রয় নিয়েছে আত্মীয় স্বজনের বাড়ি ও খোলা আকাশের নিচে। এছাড়া তিস্তা,ধরলা ও দুধকুমার নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের।
ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের কবলে পড়ে শেষ সম্বলটুকু হারিয়েছেন উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মুসুল্লি পাড়া এলাকার বাসিন্দা ফকির চান (৬০)।
তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, গতকাল আমার বাড়ি নদীর পোটোত গেইছে। আমার আর যাওয়ার মত কোন স্থান নাই। মানুষের জায়গায় কয়টা টিন দিয়ে ছায়লা করি কোন রকমে আছি। কোথায় বাড়ি করবো, কোথায় যাবো চিন্তায় বাঁচি না।
ওই এলাকার লতিফ মন্ডল বলেন, কয়েকদিন থেকে নদী খুব ভাঙছে, গাছপালা ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। আমার বাড়িও ভেঙে গেছে। আমাদের যে কি কষ্ট এখানে না আসলে কেউ বুঝতে পারবে না।
স্থানীয় কলেজছাত্র আবুল কালাম আজাদ বলেন, ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া ছাড়া আমাদের আর কি বা করার আছে বলুন? শত পোস্ট শত নিউজ করলেও কারো নজরে আসবে না, কেউ গুরুত্ব দিবে না। কুড়িগ্রাম জেলার সবচেয়ে দারিদ্র্যতম ইউনিয়ন বেগমগঞ্জ সারাজীবন দারিদ্র্যই থাকব। ত্রাণ নয়, টেকসই বাঁধ চায় বেগমগঞ্জ ইউনিয়নবাসী।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জালাল মিয়া বলেন, পানি বৃদ্ধির কারণে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদে। গত এক সপ্তাহে মুসুল্লি পাড়া এলাকার ১৫টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। তাদের যাওয়ার মত কোন জায়গা নাই। স্থানীয়রা তাদের থাকার কোন রকমে একটা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু মিয়া বলেন, আমার ইউনিয়নের বেশির ভাগ অংশ ব্রহ্মপুত্রের তীরে। ভাঙনে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১৫০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধু ১ হাজার জিও ব্যাগ দিয়েছেন ব্যাপারী পাড়া গ্রামে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উলিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল কুমার জানান, বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে টেকসই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তের তালিকা করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন নিয়ে আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি।