বিশ্বকাপ দলে জায়গাই হলো না মাহমুদউল্লাহর

তিন দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্পে ছিলেন। একবার নয়, শ্লগ ও পাওয়ার প্লে দুইবারে দুই দফা মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং দেখেছিলেন শ্রীধরন শ্রীরাম। অভিজ্ঞ ব্যাটার দুই সুযোগে ভালো কিছু করতে পারেননি অবশ্য। সেই ব্যর্থতাই তার বাদ পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াল। এতদিন ইনডোর বা নেটে বড় শটের প্রস্তুতি সব বৃথা গেল, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে জায়গা হলো না মাহমুদউল্লাহর। এই প্রথম বাংলাদেশের সেরা চার ক্রিকেটারের তিনজনকে ছাড়া বিশ্বকাপে যাচ্ছে দল।

দল ঘোষণার আলোচনায় এই ক’দিন মাহমুদউল্লাহর থাকা না থাকাই ছিল বড় প্রশ্ন। বাদ পড়ার জোর সম্ভাবনায় মুশফিকুর রহিমের অবসর নেওয়ার পর থেকেই ছিল। তবুও শেষ মুহূর্তে অভিজ্ঞ হার্ডহিটারের বিবেচনায় মাহমুদউল্লাহর দলে থাকাটা ফেলে দেওয়াও যাচ্ছিল না। অথচ কাল প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর ১৫ ক্রিকেটারের নাম ঘোষণায় তিনি নেই। বিস্ময় উপহার দিয়ে চারজন অতিরিক্ত ক্রিকেটারের তালিকাতেও নেই অভিজ্ঞ এই তারকা। শুধু এই বিশ্বকাপ নয়, টি-টোয়েন্টি নিয়ে বাংলাদেশের এখনকার চিন্তা পরের বিশ্বকাপ নিয়ে। এবারে দলে না থাকা মানে পরের বিশ্বকাপেও মাহমুদউল্লাহ বিবেচনায় নেই। ৩৭ বছর ছুঁয়ে ফেলা এই অলরাউন্ডার আবার টি-টোয়েন্টিতে ফিরবেন এমন সম্ভাবনা নেই। এই প্রশ্নের উত্তর সরাসরি দেননি নির্বাচকরা। হাবিবুল বাশার জানান যতক্ষণ একজন ক্রিকেটার অবসর না নেবে তার জন্য জাতীয় দলের দরজা খোলা। কিন্তু বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি চিন্তার ত্রিসীমানাতেও যে মাহমুদউল্লাহ নেই। তাই এই ফরম্যাটে মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার আশাও এই ক্রিকেটারের নেই। তাই টেস্টে মাঠ থেকে বিদায় নেওয়া ক্রিকেটারের টি-টোয়েন্টিতে একরকম নীরব শেষ বলা যায়!

নির্বাচক নান্নুর কণ্ঠে মাহমুদউল্লাহকে বাদ দেওয়ার কারণটা তো তাই বলছে, ‘রিয়াদের প্রতি পূর্ণ সম্মান দিয়ে বলতে চাই সে বাংলাদেশের জন্য অনেক ভালো ম্যাচ উপহার দিয়েছে। কিন্তু আমাদের যে কনসালট্যান্ট তিনি একটা পরিকল্পনা দিয়েছেন, তার গতিবিধি রিয়াদকে দলে (বিশ্বকাপ) রাখার বিপরীত দিকে যায়। তাই আমরা টিম ম্যানেজমেন্টের সবার সম্মতিক্রমে ওকে ড্রপ করেছি।’ ঠিক পরের সংবাদ সম্মেলনে শ্রীধরন শ্রীরাম জানালেন মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে আলোচনাটা সহজ ছিল না, ‘এটা কখনই সহজ ছিল না। সে (মাহমুদউল্লাহ) বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি খেলা ক্রিকেটার। তার প্রতি আমার পূর্ণ সম্মান থাকছে। এই আলোচনায় আমাকে খলনায়কের ভূমিকায় থাকতে হয়েছে। তবুও আমি বলব সব ভালো ছিল।’

শ্রীরামের কথায় এই ফরম্যাটে মাহমুদউল্লাহর শেষটা দেখা যায়। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১২১ টি-টোয়েন্টির ১১৩ ইনিংসে ২১২২ রান তার। ২৩.৫৭ গড় ও ১১৭.৩০ স্ট্রাইকরেটে আছে ৬টি ফিফটি। মাহমুদউল্লাহকে দেশের ক্রিকেটের মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে তুলনা করে তার বাদ পড়াটা আরও পরিষ্কার করেন শ্রীরাম, ‘দলে তার যে ভূমিকা সেখানে মাহমুদউল্লাহকে ধোনির সঙ্গে তুলনা করব আমি। ধোনি যেমন ভারতের জন্য ৬ নম্বরে ব্যাট করত মাহমুদউল্লাহও তাই। কিন্তু একটা বিষয় ধোনি কখনই আজীবন খেলতে পারত না তাই না? এখন সময় এসেছে তার গুরুত্বপূর্ণ জায়গার জন্য অন্য কাউকে তৈরি করা। কাউকে যদি আমরা না খেলাই তাহলে তো কখনই বদলি তৈরি করতে পারব না।’

দু’দিন আগে বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছিলেন কোনো ক্রিকেটার চাইলে সসম্মানে অবসরের সুযোগ দেওয়া হবে। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে শ্রীরামের আলোচনা সেই পথে হাঁটেনি বোঝাই যায়। তাই মুশফিকের মতো মাহমুদউল্লাহও খুব সম্ভব মাঠের বাইরে থেকেই টি-টোয়েন্টি অবসরে যাচ্ছেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল : সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান সোহান, তাসকিন আহমেদ, লিটন দাস, ইয়াসির আলি চৌধুরী রাব্বি, হাসান মাহমুদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নাসুম আহমেদ, এবাদত হোসেন, নাজমুল হোসেন শান্ত।

দলে ফিরেছেন : লিটন দাস, নুরুল হাসান সোহান, ইয়াসির আলি চৌধুরী রাব্বি, হাসান মাহমুদ, নাজমুল হোসেন শান্ত।

বাদ পড়েছেন : মাহমুদউল্লাহ, এনামুল হক বিজয়, মুশফিকুর রহিম, পারভেজ হোসেন ইমন, শেখ মাহেদী হাসান।

স্ট্যান্ডবাই : শরিফুল ইসলাম, সৌম্য সরকার, রিশাদ হোসেন, শেখ মাহেদী হাসান।