জাতীয় পার্টি থেকে মসিউর রহমান রাঙ্গার অব্যাহতির ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রংপুর নগরী। জিএম কাদের ও রাঙ্গার সমর্থকেরা পাল্টাপাল্টিভাবে কুশপুতুল দাহ করেছে এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় ২০ জন নেতা কর্মী আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়, জাহাজ কোম্পানি ও জাতীয় পার্টির সেন্ট্রাল রোডের কার্যালয়ে এসব ঘটনা ঘটে।
প্রথমে রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড় থেকে জেলা মোটর মালিক সমিতির নেতা ও জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি প্রেসক্লাব চত্বর হয়ে জাহাজ কোম্পানি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে রাঙ্গাপন্থীরা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের কুশপুতুল দাহ করেন। এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাঙ্গাকে দলে পুনর্বহাল করা না কাল থেকে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। মিছিলটি নিয়ে ফেরার পথে গ্রান্ড হোটেল মোড়ে সোনালী ব্যাংকের সামনে জি এম কাদের বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকলে জাতীয় পার্টির নেতা কর্মীদের সঙ্গে তাদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জিএম কাদেরের কুশপুতুল দাহ’র ঘটনাটি জানাজানি হলে রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সকল স্তরের নেতা কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে জাহাজ কোম্পানির মোড়ে সমাবেশ করেন তারা। সেখানে রাঙ্গাকে রংপুরের মাটি থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয় এবং তারও কুশপুতুল দাহ করা হয়।
এর আগে রাত ৮টার দিকে নগরীর সেন্ট্রাল রোডের জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয়ে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, রংপুর সিটি করপোরেশন মেয়র ও মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জিএম কাদেরের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে দলের নেতা কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন। তিনি এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, রাঙ্গা সাহেব পার্টির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তা ঠিক করেননি। সবার আগে দল বড়। দলের বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ কোনো দিন সুফল ভোগ করতে পারেনি। তিনি ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে আরও বলেন, দলের ভেতরে থেকে দলের বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না। দলের স্বার্থে চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটাতে আমরা একমত।
এ সময় মহানগর জাপা সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির ও জেলা জাপা সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মশিউর রহমান রাঙ্গা দলের কাছে ক্ষমা চাইলে অবশ্যই দল বিবেচনা করবে। আর তাকে তো দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি। পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। উনি ক্ষমা চাইলে আবারও তিনি দলে ফিরত আসতে পারবেন।
এ সময় দলীয় কার্যালয়ে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগর জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, জাতীয় শ্রমিক পার্টির সভাপতি রাজু আহমেদ, মহানগর ছাত্রসমাজের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত আসিফসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা।
বিক্ষোভ মিছিল ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ সার্বিক বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজার রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। নগরীতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাঙ্গার নির্বাচনী এলাকা রংপুর-১ গঙ্গাচড়া বাজারের জিরো পয়েন্টে জিএম কাদেরের কুশপুতুল দাহ করেছেন তার সমর্থকেরা।