ত্রিদেশীয় সিরিজ ও বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতির জন্য শুরু হয়েছিল টাইগারদের অনুশীলন ক্যাম্প। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় সব ভেস্তে গেছে। টি-টোয়েন্টি দলের টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট শ্রীধরন শ্রীরাম তাই ক্রিকেটারদের পরখ করার যথেষ্ট সুযোগ পাননি। এজন্য দেশের বাইরে প্রস্তুতি নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাত যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। সেখানে আমিরাতের সঙ্গে দুই ম্যাচের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলবে। ২৮ তারিখ দেশে ফিরে নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার লক্ষ্যে দেশ ছাড়বেন সাকিব আল হাসানরা।
আজ বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসব তথ্য জানান বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন।
বৈরি আবহাওয়ার কারণে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আবহাওয়ার জন্য আমাদের দলের প্রস্তুতি ঠিকঠাক হচ্ছিল না। সেজন্য মূলত এ পরিকল্পনাটা করা। আমরা আরও দুয়েকটা জায়গায় আলোচনা করেছিলাম, আমাদের যেটা সিদ্ধান্ত আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের একটা ক্যাম্প বা সিরিজে অংশগ্রহণ করব। বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দলের সঙ্গে দুই ম্যাচের সিরিজ আয়োজনের কথাবার্তা চলছে আমাদের।
বিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশ ছাড়ার একটি পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২২ তারিখ দল যাওয়ার ব্যাপারে একটা শিডিউল করা হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর আমরা হয়ত দেশে ফিরব। এর মধ্যে কয়েকটা প্র্যাকটিস সেশন রয়েছে। ২৫ ও ২৭ তারিখ দুই ম্যাচের একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলব আমরা। আমিরাত বোর্ড তাতে রাজি হয়েছে। দেশে ফিরে তারপর নিউজিল্যান্ডে যাবে দল।’
তিনি যোগ করেন, ‘এখন পর্যন্ত যেটা আলোচনা হয়েছে ২৫-২৭ তারিখের মধ্যে যেকোনো দুইদিন আমরা ম্যাচ খেলতে পারি। ২৮ তারিখ দেশে ফিরবো। দেশে ফিরে হয়তো আমরা মাত্র ২-৩ দিনের মতো সময় পাবো। মূল দলের সঙ্গে স্ট্যান্ড বাই থাকা ক্রিকেটাররাও সেখানে যাবে।’
ত্রিদেশীয় সিরিজ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দুটোই হবে ওশেনিয়া মহাদেশে। একটি নিউজিল্যান্ডে, অন্যটি অস্ট্রেলিয়ায়। আবার বাংলাদেশ নিজেদের প্রস্তুত করছে আরব আমিরাতে। যেখানে কন্ডিশন সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির প্রস্তুতি টুর্নামেন্টের জন্য কতটা ফলপ্রসু! তবে বিসিবির ভাবনায় কন্ডিশনের চেয়ে প্রস্তুতিটাই বড় জায়গা জুড়ে আছে। তাছাড়া দুবাই স্পোর্টস সিটিতে বাড়তি সুযোগ সুবিধা তো রয়েছেই।
এ বিষয়ে সুজন বলেন, ‘আবহাওয়ার কারণে আমরা এখানে যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাইনি। এই বিষয়গুলো কনসিডার করে টিম ম্যানেজমেন্টের এটা প্ল্যান। সে অনুযায়ী আমাদের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। তাই কন্ডিশনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ম্যাচ সিনারিও। অন্যান্য যে প্র্যাকটিস সুবিধা সেগুলো আপানারা জানেন যে দুবাইতে স্পোর্টস সিটি আছে কিংবা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা আমরা নিতে পারব।’
দুবাই স্পোর্টস সিটিতে অন্যান্য সুযোগ সুবিধার দিকে বিসিবির মনোযোগ রয়েছে জানিয়ে বোর্ডের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা অন্যান্য সুযোগ সুবিধার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে আরও দুইটা বাড়তি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি, এটাতে দলের প্রস্তুতি আরও ভালো হবে আশা করি। মূলত সুযোগ সুবিধার জন্যই যাচ্ছি। এর বাইরে আমাদের আরও কিছু পরিকল্পনা আছে। এখানে টিম ম্যানেজমেন্টের একটা চাওয়া আছে। এখানে শুধু সুযোগ সুবিধা না, অন্যান্য বড় টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগে আমরা কিন্তু দেশের সুযোগ সুবিধা নিয়েই প্রস্তুত হই।
আরব আমিরাতের সিরিজ কতটা কাজে আসবে জানতে চাইলে জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক কাজী নুরুল হাসান সোহান বলেন, ‘আমরা যত ম্যাচ খেলব তত ম্যাচ টেম্পারমেন্ট বুঝে ওঠার জন্য ভাল হবে। অভিজ্ঞতাও হবে। আমার কাছে মনে হয় যে আমরা যে নিউজিল্যান্ড যাওয়ার আগে একটা ক্যাম্প করতে পারছি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারছি সেটা খুব ভাল হবে।’
সোহান যোগ করে বলেন, ‘ম্যাচ আপনি যার সঙ্গেই খেলেন না কেন, এটা একটা অভিজ্ঞতা হয়। কোনো দলকেই তো টি-টোয়েন্টিতে ছোট করে দেখতে পারবেন না। যেদিন যারা ভাল খেলবে তারাই জিতবে। আমার কাছে মনে হয় যে এটা বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে খুব ভাল সুযোগ যে ম্যাচ খেলতে পারছি।’