'বহুত চিটারি-বাটপারি কইরি প্রেডিডেন্ট হইছি': ভাইরাল জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি

এক নারী কর্মীর সঙ্গে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিবুল ইসলাম রানার কথোপকথনের একটি অডিও ফাঁস হয়েছে। ৪ মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়।

ওই অডিওতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিবুল ইসলাম রানা বলেছেন, চিটারি-বাটপারি করে তিনি সভাপতি হয়েছেন। তিনি সব চিটারের সর্দার। ওই অডিওতে টাকা আর সহ-সভাপতি পদের লোভ দেখিয়ে নারীকর্মীর সঙ্গে তার যৌন কেলেঙ্কারিরও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

কথোপকথনটি এখানে তুলে ধরা হলো: 

কর্মী: হ্যালো আসসালামু আলাইকুম।

রানা: তুমি আমার সাথে নাটক করিচ্চো তাই না?

কর্মী: কিসের নাটক ভাইয়া?

রানা: তোমারতো কথা-কাজের একটাও মিল পাচ্ছি না।

কর্মী: কিন্তু আমার কথা ও কাজের মিলতো সব সময় থাকে।

রানা: কই আজ কার সাথে ঘুরতে গেলা, বললা ভাইয়া...

কর্মী: বুঝি নাই

রানা: তুমি কার সাথে গেলা, বললা এডা আমার ভাইয়া। তোমারতো ভাইয়াই নাই। এইডা হইলো?

কর্মী: কে বলল?

রানা: শোনো, আমার চোখ চারদিকেই থাকে...এসব চিটারি করতে পারবা না। বহুত বড় চিটারি-বাটপারি কইরি আমি প্রেডিডেন্ট হইছি...। সব চিটারের দলের সর্দার আমি।

কর্মী: জ্বী ভাইয়া।

রানা: তুমি না আসলে, না আসলে, তুমি কাউকে পাঠাইতে চাইলে সে কই?

কর্মী: এখন আমিতো ব্যস্ত ছিলাম। এর জন্যইতো হয় নাই।

রানা: এখন কই?

কর্মী: আমি বাসায় ভাইয়া

রানা: তুমি যে বাসায় চইলা গেলা, নিজে শান্তি পাইলে সব শান্তি। আর আমরা এভাবেই থাকি, নাকি? তোমাকে কত বিশ্বাস করি তুমি বলো তো?

কর্মী: আমিতো বিশ্বাসের মর্যাদা সব সময় রাখার চেষ্টা করি।

রানা: তুমি যার সাথে ঘোরো, তার চেয়ে যদি বড় নেত্রী হও, সেটা মানুষ মাইনা নিতে পারে না, এটা বোঝো না?

কর্মী: জ্বী ভাইয়া। এখন তৃষা আপু কি আমার সত্যিই খারাপ চাচ্ছে?

রানা: মসজিদে উঠে বললে বিশ্বাস করবে?

কর্মী: ছিঃ ছিঃ ভাইয়া। আমিতো আপনাকে বিশ্বাস করি। এটার জন্য এতদূর তো করতে হবে না।

রানা: তাহলে কেউ চায়, তার চেয়ে তুমি বড় হও? সে সাংগঠনিক, তুমি পার্টির যদি ভাইস প্রেসিডেন্ট হও, তার চাইতে দুই গুণ রাস্তা উপরে তোমার। যুগ্মদের চাইতেও সিনিয়র তুমি...।

কর্মী: আমি তো আপনার কথামতো তৃষা আপুকে ছেড়ে দিলাম ভাইয়া। কিন্তু আপনাকে মেইনটেন যে করব, মানে একটা ব্যবহার আমার খুব খারাপ লেগেছে।

রানা: আমাকে তুমি মেইনটেন করবে, আমিতো সরাসরি বলেছি। তোমার ফিনান্সিয়াল সাপোর্ট লাগবে আমি দেব। আমার কোন ন্যাচার খারাপ লাগল বলো?

কর্মী: আছেতো অনেক কারণই আছে।

রানা: শান্ত?

কর্মী: অবশ্যই শান্ত ভাইয়ার ব্যবহার। সেই দিনের ওইটা আমার খারাপ লেগেছে।

রানা: ওই যে তুমি বলছিলা, তোমার আরও লাগবে। তাই ভাবলাম তুমি একটু সুখে থাকো, খুশি থাকো।

কর্মী: এগুলোতো ভাইয়া অবান্তর কথা। আর আমার ফাইনান্সিয়াল সাপোর্টের কোনো প্রয়োজন নেই। সংগঠনটাকে ভালবেসেই আমি আসছিলাম।

রানা: তাহলে শোন, শান্ত-মান্ত কেউ থাকবে না। আমি একা...

কর্মী: তো ভাইয়া আপনি মেয়ের কথা কালকে বলছিলেন, যেটা ছবি পাঠাইছিলাম। এখন আপনি বললে তাহলে...

রানা: দেখো তো দেখো তো পাঠাতে পার নাকি।

কর্মী: এখন ভাইয়া উনিও তো ফ্যামিলির সাথে থাকে।

রানা: কেবল তো ৮টা বাজে রে। রাত হয়নি। একটু ফোন দাও দ্রুত। দিয়ে দেখো তো...। কেউ যেন না জানে।

কর্মী: না না কে জানবে! আপনি আমাকে ভরসা করতে পারেন।

রানা: কী রকম ভরসা করি দেখো না?

কর্মী: জ্বী ভাইয়া।

এদিকে, রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিবুল ইসলাম রানার বিরুদ্ধে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের মামলা হয়েছে। রাজশাহীর দুর্গাপুর আমলি আদালতে বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এই মামলা দায়ের করেন দুর্গাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান।
  
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামি রানা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আতিকের কাছ থেকে গত ৩১ মার্চ নগদ ৯০ হাজার টাকা এবং ডাক বিভাগের অনলাইন (নগদ) এর মাধ্যমে দশ হাজার টাকা নেন। ২০২২ সালের মে মাসে সে বাদীকে চাকরি পাইয়ে দিবে বলে কথা দেয়। এরপর সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও রানা চাকরি দিতে না পারায় আতিক টাকা ফেরত চান রানার কাছ থেকে। এসময় রানা জানান দুই মাসের মধ্যে টাকা একযোগে ফেরত দিবেন। কিন্তু, দুই মাস পার হলেও টাকা ফেরত দেননি।
 
আতিকুর রহমানের পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন আইনজীবী ইমরান কলিম খান। তিনি জানান, প্রতারণার মামলা। ৪০৬ ও ৪২০ ধারার মামলা। টাকা নেওয়ার কাগজপত্রও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আইনজীবী বলেন, দুর্গাপুর আমলি আদালতে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। বিচারক মো. লিটন হোসেন আগামী ১২ ডিসেম্বর আসামিকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছেন।