ধামরাই সাটুরিয়া জুড়তে সেতু চান লাখো মানুষ

গাজীখালি নদীর মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বাছট গ্রামের মাদ্রাসা ঘাটে একটি ব্রিজের অভাবে দুটি উপজেলার ৩০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এক পাড়ে ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা, আরেক পাড়ে ঢাকার ধামরাই উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারীকে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। আবার সন্ধ্যা নামলেই খেয়া পারাপার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ১০-১৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে সময় ও বাড়তি টাকা।

গাজীখালি নদীর ওই স্থানটিতে সেতু দাবি করেছেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ২০টি এবং ঢাকার ধামরাই উপজেলার ১০টি গ্রামের মানুষ। দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানায়, খেয়ায় উঠতে না পারলে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। আবার সন্ধ্যার পর খেয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগী, গার্মেন্টস কর্মীসহ পথচারীদের পড়তে হয় বিপাকে। রাতে খেয়া বন্ধ থাকায় শত শত মানুষকে কয়েকটি গ্রাম ঘুরে চলাচল করতে হয়। নদীঘেঁষা সাটুরিয়া উপজেলার লেবুসহ বিভিন্ন ফসল হাটবাজারে নিতে গিয়ে সেতু না থাকায় ১০-১৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। সম্প্রতি এক লেবুচাষি নদী পার হতে গিয়ে লেবুর ঝাঁকার নিচে পড়ে মারা যান।

বাছট ব্রিজ বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি নামে একটি সংগঠন বিভিন্ন সভা, সেমিনার করে আন্দোলন করে আসছে। ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে তারা সম্প্রতি মাঝ নদী ও নদী পাড়ে মানববন্ধন করেছে।

প্রত্যাশা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শুভাষ চন্দ্র রাজবংশী বলেন, গাজীখালি নদীর বাছট গ্রামে একটি ব্রিজ পেলাম না। অথচ এই স্পটটি সাটুরিয়া ও ধামরাই উপজেলার অভ্যন্তরীণ সংযোগ মোড়। সারা বছর বাঁশের সাঁকো থাকে। আর বর্ষা মৌসুমে খেয়াই আমাদের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে।

বাছট ব্রিজ বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুল্লাহ মিজান বলেন, নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা ব্রিজ করার আশ্বাস দেন। এরপর আর কোনো খবর থাকে না। তাই আমরা বাধ্য হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্রিজ চেয়ে আবেদন করেছি।

বাছট ব্রিজ বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম সচিব আমিনুল ইসলাম বলেন, দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা সময়মতো খেয়া পার না হতে পারলে ২০-২৫ মিনিট বসে থেকে পার হলে ১ম ক্লাসই করতে পারে না। তাছাড়া সন্ধ্যার পর খেয়া বন্ধ থাকায় কোনো মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে পারি না। ১৫-২০ কিলোমিটার ঘুরে হাসপাতালে নিতে গিয়ে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।

সাটুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন পিন্টু বলেন, এ স্থানে ব্রিজটি নির্মাণ খুব প্রয়োজন। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক মহোদয়কে দিয়ে সুপারিশ করিয়েছি। আশা করছি খুব শিগগিরই ব্রিজ নির্মাণের সুখবর পাব।

সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল করিম বলেন, বাছট গ্রামে ৪৫ মিটার ব্রিজের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পটি পাস হলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হবে।