বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু শূন্যরেখায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমার থেকে আসা মর্টার শেল বিস্ফারণে মোহাম্মদ ইকবাল (১৫) নামে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। এ সময় আরো ছয় রোহিঙ্গা গুরুতর আহত হন।
শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮ টারদিকে তুমব্রু সীমান্তের শূণ্যরেখার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু শূন্যরেখার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮ টারদিকে মিয়ানমারের ওপার থেকে একটি মর্টারশেল নিক্ষেপ করা হয়। মর্টার শেলটি বিস্ফোরিত হলে মোহাম্মদ ইকবাল (১৫) নামে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়। এ সময় আহত হয় ছয় রোহিঙ্গা। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দিল মোহাম্মদ বলেন, মিয়ানমারের ওপার থেকে সে দেশের সেনাবাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে মর্টার শেল নিক্ষেপ করেছে।
গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালং এমএস এফ হাসপাতালের ভর্তি করা হয়।
আহতরা হলেন সেলিম উল্লাহর মেয়ে সাদিয়া জান্নাত (১০), তার স্ত্রী সাবেকুর নাহার(৩০), ছৈয়দ করিমের ছেলে নবী হোসেন (২২), ভুলু (৪৪) ও রহিম উল্লাহর ছেলে আনাছ (১২)। তারা সবাই তুমব্রু শূণ্যরেখায় অবস্থিত ক্যাম্পের বাসিন্দা।
রোহিঙ্গারা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইকবাল নামে এক রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়।
পরে গুরুতর আহতদের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সহ স্থানীয় দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে দুপুরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম-তুমব্রু মিয়ানমার সীমান্তে ‘ল্যান্ড মাইন’ বিস্ফোরণে অন্য থাইন চাকমা (২২) নামে এক যুবকের পা উড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রাখাইনদের সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংঘাতের মধ্যে এর আগে সীমান্তে গোলা এসে পড়ে। তবে সেটি বিস্ফোরিত হয়নি।
এরপর বেশ কয়েকবার মিয়ানমারের যুদ্ধবিমানের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটে। সীমান্তের বাসিন্দারা নিয়মিতই গোলাগুলির শব্দ পাচ্ছিলেন; যাতে তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
মিয়ানমার বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, রাখাইনদের সংগঠন আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী বোমা বর্ষণ করে।
সংঘাতের মধ্যে গত ২৮ অগাস্ট দুপুরে বান্দরবানের ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমার থেকে দুটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল এসে পড়ে।
এরপর ৩১ অগাস্ট রাখাইন রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মংডু শহরতলীতে আরাকান আর্মির সদস্যরা একটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়ে ১৯ জনকে হত্যা করে বলে প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়।
এর মধ্যে ৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের দুটি যুদ্ধবিমান ও দুটি ফাইটিং হেলিকপ্টারে গোলা বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে এসে পড়ে।
এসব ঘটনায় দেশটির রাষ্ট্রদূতকে দুইবার ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানায় ঢাকা।
এদিকে ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনে পালিয়ে আসা ৬২১টি পরিবারে চার হাজার ২০০ রোহিঙ্গা এখনও তুমব্রু সীমান্তের কোণাপাড়ার শূণ্যরেখার আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে। গোলাগুলির কারণে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।