মিয়ানমারের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে আরো শরণার্থী আসার ক্ষেত্র তৈরি করলেও নতুন করে আর কোনো রোহিঙ্গাকে ঢুকতে না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
মন্ত্রী বলেন, 'রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির কাউকে আর ঢুকতে দেব না। যে পরিমাণ রোহিঙ্গা দেশে রয়েছে, এখন তাদের নিয়ে নিজেরাই নানা ধরনের জটিলতায় রয়েছি। তাই আর কোনো রোহিঙ্গাকে দেশের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না।'
সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পুলিশের বিশেষায়িত অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
তিনি বলেন, 'মিয়ানমার তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার জন্য নানা ধরনের যুদ্ধে জড়িত হয়েছে। এটা তাদের নিজেদের সমস্যা, আমরা এখনো সঠিকভাবে জানি না, তারা কার সঙ্গে গোলাগুলি করছে। কিংবা কাকে তারা প্রতিহত করছে। যেটুকু শুনেছি, আরাকান আর্মির সঙ্গে তাদের বিরোধ। সেই বিরোধের জেরেই গোলাগুলি।'
তিনি আরো বলেন, 'আমরা শান্তিপূর্ণ দেশ। শান্তি বিঘ্নিত হোক, তা চাই না। আমরা সবসময় শান্তিতে থাকতে চাই।'
প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে দমন-পীড়নের শিকার হয়ে মুসলিম রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে। ২০১৭ সালের আগে এই সংখ্যা চার লাখের মতো ছিল। ২০১৭ সালে রাখাইন প্রদেশে সেনা অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। সব মিলিয়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার অধিকাংশই সীমান্ত জেলা কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে রয়েছেন। বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর ভার বহন কষ্টকর হয়ে ওঠার কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
এর মধ্যেই আগস্টের শেষ দিকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন করে সংঘাত বেঁধেছে রাখাইন প্রদেশে। ফলে আবারও রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় খুঁজতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিয়ানমারের এই সংঘাতের বলি সীমান্তের বাংলাদেশিরাও হচ্ছে। মাঝে-মধ্যে গোলা এসে পড়ছে বাংলাদেশের ভেতরে। তাতে এখন অবধি একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।