শিক্ষকদের কোটি টাকা নিয়ে এনজিও লাপাত্তা

নাসিরনগরে বেসরকারি একটি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) সরকারের মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের শিক্ষকদের বেতনসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় কোটি টাকা না দিয়ে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী একজন শিক্ষক প্রতিকার চেয়ে সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।

তানভীর নামে ওই শিক্ষকের অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো নাসিরনগরে মৌলিক সাক্ষরতা নামে একটি প্রকল্পের দায়িত্ব দেয় পার্শ্ববর্তী সরাইল উপজেলার ‘সমাজ প্রগতি সংস্থা’ নামে এক এনজিওকে। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর এনজিওটি কাজ শুরু করে মাসে ২৪শ টাকা বেতন ধরে নিয়োগ দেয় ছয়শ শিক্ষক এবং আড়াই হাজার টাকায় ১৫ জন সুপারভাইজারকে। তিনশ কেন্দ্রের জন্য ১৩টি ইউনিয়নে ভাড়া নেওয়া হয় ৩০০টি ঘর। ছয় মাস মেয়াদি প্রকল্পটি গত জুনে শেষ হয়। কিন্তু প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত এনজিও সমাজ প্রগতি সংস্থার পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ৬ শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সুপারভাইজরের পাঁচ মাসের বেতন না দিয়ে চলে যায়। তবে এর আগে বেতন-ভাতার কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে নেয় এনজিওটি। অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি কেন্দ্রগুলোর ঘর ভাড়াও দেয়নি। দেওয়া হয়নি পাঁচ মাসের বিদ্যুৎ বিল এবং আসবাবপত্র কেনার টাকাও। শিক্ষকরা কেন্দ্রগুলোর জন্য শিক্ষা উপকরণ ও বিভিন্ন স্টেশনারি কিনলেও এনজিওটি দেয়নি কোনো খরচ। শুধু প্রথম মাসের বেতন দেওয়ার পর বাকি পাঁচ মাস আর বেতন-ভাতা না দেওয়ায় ওই শিক্ষকরা পড়েছেন বিপাকে। আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ঘর মালিকরা। সব মিলিয়ে না দেওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় কোটি টাকা।

এনজিওটির উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের সুপারভাইজর আবদুল হাই জানান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষে তারা চলে গেছে। তাদের এতদিন ব্যবহার করা মোবাইল নম্বরে এখন কল দিয়ে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার রিপাত আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষক ও সুপারভাইজরদের বেতন-ভাতার দায়িত্ব সমাজ প্রগতি সংস্থার। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাচ্ছি না। বিষয়টি হেড অফিসে জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সেখান থেকে চলে এসেছি।

সমাজ প্রগতি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক একেএম বজলুর রশিদ তালুকদার বলেন, নাসিরনগরে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বকেয়া বেতন ভাতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের টাকা না দেওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।