সরকার রাশিয়া থেকে বেশি দামে গম কিনছে বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। সরকার সঠিক দামেই গম কিনেছে, কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইসমাইল হোসেন নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে খাদ্য সচিব বলেন, টিআইবির মাধ্যমে এ ধরনের প্রতিবেদন জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করবে। এ ধরনের রিপোর্ট আরও তথ্যবহুল হওয়া দরকার। আইন লঙ্ঘন করে রাশিয়া থেকে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) পাঁচ লাখ টন গম কেনায় তৃতীয় একটি পক্ষকে যুক্ত করা হয়েছে বলে টিআইবি বলেছে। এর জবাবে খাদ্য সচিব বলেছেন, গম ও চাল ক্রয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় গণ-খাতে ক্রয় আইনের লঙ্ঘন করেনি এবং কোনো তৃতীয় পক্ষকে ক্রয় প্রক্রিয়ায় যুক্ত করেনি। কয়েকটি গণমাধ্যমের সংবাদে যে তৃতীয় পক্ষের নাম বলা হচ্ছে, তাদের রাশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে তাদের লোকাল এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোনো তৃতীয় পক্ষ বাংলাদেশের গম ক্রয়ের নেগোসিয়েশন, মূল্য নির্ধারণ ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত ছিল না। জিটুজি কার্যক্রমে সরকার নির্ধারিত কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে নেগোসিয়েশন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। এরপর প্রস্তাবটি ক্রয় কমিটিতে যায়। ক্রয় কমিটির অনুমোদনের পর খাদ্য মন্ত্রণালয় কার্যাদেশ দেয়। এখানে তৃতীয় কোনো পক্ষের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।
টিআইবির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববাজারে পড়তির দিকে থাকলেও ওই পক্ষের মাধ্যমে গম কেনা হচ্ছে বেশি দামে। খাদ্য সচিব বলেছেন, বেশি দামে গম কেনার তথ্যটি সঠিক নয়। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা হতে জিটুজি প্রক্রিয়ায় গম সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে গমের দাম ৫০০ ডলারের ওপরে হওয়ায় সরকার এসব দেশ থেকে গম কেনায় আগ্রহী হয়নি।
বিতর্কিত প্রডিনটর্গকে কার্যাদেশ দেওয়ার ঘটনায় হতবাক হওয়ার কথা বলেছে টিআইবি। জবাবে খাদ্য সচিব বলেছেন, প্রডিনটর্গ রাশিয়ার গম রপ্তানির জন্য রাশিয়া সরকার মনোনীত প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ সরকার প্রডিনটর্গকে মনোনীত করেনি।
এক লাখ টন গম চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়া প্রতিষ্ঠান কোন জাদুবলে পাঁচ লাখ টন গম সরবরাহের কাজ পেল টিআইবির এ অভিযোগের জবাবে খাদ্য সচিব বলেছেন, রাশিয়া বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন ধরে জিটুজি কার্যক্রমে অন্যান্য দেশের মতো গম সরবরাহ করে আসছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রডিনটর্গ তিন লাখ টন গম যথাসময়ে নিয়মমতো বাংলাদেশকে সরবরাহ করেছে। ২০২০-২১ সালে করোনাকালে দুই লাখ টন সরবরাহের চুক্তিবদ্ধ ছিল। প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা এক লাখ টন গম সরবরাহ করে। এর আগেও তারা সঠিকভাবে গম সরবরাহ করেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় মনে করে, সঠিক তথ্য গোপন করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছে টিআইবি। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এ ষড়যন্ত্র করছে তারা। গত রবিবার টিএইবি ‘বেশি দামে গম আমদানি’ শিরোনামে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।