পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটিটা ছিল দুর্দান্ত। তবুও প্রত্যাশিত পুঁজি তারা পায়নি। শেষ দশ ওভারে স্বাগতিকদের ইংল্যান্ডের বোলাররা চেপে ধরলে ১৫৮ রানেই থেমে যান বাবর আজমরা। সেই লক্ষ্য ছুঁতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি সফরকারীদের। ৪ বল হাতে ৬ উইকেটের জয়ে প্রায় দেড় যুগ পর পাকিস্তানে খেলতে নেমেই জিতল ইংলিশরা।
শেষবার ২০০৫ সালে পাকিস্তান সফর করেছিল ইংল্যান্ড। এরপর কেটে গেছে ১৭টি বছর। ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলংকার টিম বাসের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর বলতে গেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বন্ধই হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানে। গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ইংল্যান্ডের ‘যাই-যাই করে’ আর যাওয়া হয়নি। অবশেষে ইংলিশরা পাকিস্তানে সিরিজ খেলতে গেছে। মঙ্গলবার শুরু হয়েছে সাত ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। আর সেটা জয় দিয়েই শুরু করলেন মঈন আলীরা।
করাচিতে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে পাকিস্তানকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান ইংলিশ অধিনায়ক মঈন আলি। বাবর আজম আর মোহাম্মদ রিজওয়ান দলকে এনে দেন দারুণ সূচনা। উদ্বোধনী জুটিতে ৫৭ বলে ৮৫ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান।
এরপরই যেন স্বাগতিকদের চেপে ধরেন ইংলিশ বোলাররা। ফলে প্রত্যাশিত পুঁজি পায়নি পাকিস্তান। ৭ উইকেটে ১৫৮ রানেই আটকে যায় তারা। রিজওয়ান ৪৬ বলে ৬ চার আর ২ ছক্কায় করেন ৬৮ রান। বাবর করেন ২৪ বলে ৩১। এছাড়া হায়দার আলি (১৩ বলে ১১), শান মাসুদ (৭ বলে ৭), মোহাম্মদ নাওয়াজরা (৫ বলে ৪) দলের চাহিদা মেটাতে পারেননি। মেরে খেলছিলেন ইফতিখার আহমেদ। তিনি শেষ ওভারে আউট হন ১৭ বলে ২৮ করে।
ইংলিশ বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন অভিষিক্ত লুক উড। ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান খরচায় ৩টি উইকেট নেন বাঁহাতি এই পেসার। তিনিই হন ম্যাচসেরা।
১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অ্যালেক্স হেলসের হাফসেঞ্চুরিতে সহজ জয়ের পথ তৈরি হয়ে যায় ইংল্যান্ডের। সাড়ে তিন বছর পর ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে জড়িয়ে অর্ধশতকে প্রত্যাবর্তন রাঙালেন এই ব্যাটার। ৪০ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৫৩ রান করে হেলস যখন ফিরছেন, ২০ বলে মাত্র ১৭ রান দরকার সফরকারীদের। হ্যারি ব্রুকস ২৫ বলে ৭ চারের সাহায্যে ৪২ রানের ঝড়ো এক ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। মাঝে বেন ডাকেটের ১৭ বলে ২১ আর ডেভিড মালানের ১৫ বলে ২০ রানও দলের জয়ে অবদান রেখেছে।