জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের দৌলতে আমরা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের গভীরে উঁকি মারতে পারছি। কিন্তু পৃথিবীর কাছেই বুধ গ্রহ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত। ইউরোপ ও জাপানের এক যৌথ অভিযান সেই অভাব দূর করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ‘বেপি কলম্বো’ নামে প্রকল্পে ১০০ কোটি ইউরো বিনিয়োগ করেছে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এসা ও জাপানের মহাকাশ সংস্থা জেএএক্সএ।
বুধ গ্রহ সূর্যের আড়ালে থাকায় পৃথিবী থেকে টেলিস্কোপের মাধ্যমে সেটি পর্যবেক্ষণ করা কঠিন। সেই গ্রহের উদ্দেশে যাত্রাপথে সূর্যের তীব্র অভিকর্ষও বড় বাধা। এ জন্য ‘বেপি কলম্বো’ যাতে বুধ গ্রহের কক্ষপথে আদৌ পৌঁছতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে ইঞ্জিনিয়ারদের অত্যন্ত জটিল এক যাত্রাপথ স্থির করতে হয়েছে। গন্তব্যে পৌঁছতে প্রায় সাত বছর সময় লাগবে।
অভিযানের ফ্লাইট ডিরেক্টর আন্দ্রেয়া আকোমাজো বলেন, ‘ফ্লাইট ম্যানুভার গণনা অত্যন্ত জটিল কাজ। কারণ আমরা সূর্যের দিকে যাচ্ছি, যেখান থেকে তীব্র টান আসছে। বুধ গ্রহ একেবারেই কাছে ঘুরছে। মহাকাশযানটিকে তিন ধরনের কাইনেটিক এনার্জি সামলাতে হচ্ছে।’ তিনি জানান, ‘বেপি কলম্বো’ ইতিমধ্যে দুবার শুক্র গ্রহের পাশ দিয়ে উড়ে গেছে। প্রতিবার কিছুটা কাইনেটিক এনার্জির ক্ষয় হয়েছে। এভাবে যানটি বুধ গ্রহের কক্ষপথের কাছে যেতে পেরেছে। দুবার বুধ গ্রহের ২০০ কিলোমিটার কাছ দিয়েও উড়ে গেছে। কিন্তু যানের গতি এখনো অত্যন্ত বেশি। বুধ গ্রহের মাধ্যাকর্ষণের টান কাজে লাগিয়ে যানটিকে সব মিলিয়ে ছয়বার ‘সুইং বাই ম্যানুভার’ কায়দায় নিজস্ব শক্তি কমাতে হবে। সাত বছর উড়ালের পর অবশেষে সেটি বুধ গ্রহের কক্ষপথে প্রবেশ করবে এবং দুটি পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট হিসেবে দুই ভাগে বিভক্ত হবে। তখনই আসল চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে। কারণ পৃথিবীর তুলনায় বুধ গ্রহে সূর্যের বিকিরণের তেজ দশগুণ বেশি। তা ছাড়া বুধ গ্রহে দিনের বেলার তাপমাত্রা ৪৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ছুঁতে পারে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এবং প্রকল্পের প্রধান এলসা মন্টানিয়নে বলেন, ‘বেপি কলম্বো অভিযানের শুরুতে আমরা এসার তথ্যভাণ্ডারে শুধু এমন উপকরণের খোঁজ পেয়েছিলাম, যা বড়জোর ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সুরক্ষা দিতে পারে। আমাদের যানটিকে ৩৫০ ডিগ্রি মাত্রার উত্তাপ সহ্য করতে হবে। তাহলে বুঝতেই পারছেন, আমাদের কী পরিমাণ উন্নতি করতে হয়েছে।’