আর্মেনিয়ায় একমাত্র মসজিদ

দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের দেশ আর্মেনিয়ার পশ্চিমে তুরস্ক, উত্তরে জর্জিয়া, পূর্বে আজারবাইজান এবং দক্ষিণে ইরান। দেশটি মেরিল্যান্ড রাষ্ট্রের তুলনায় সামান্য বড়, কিন্তু সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের দিক থেকে খুব সমৃদ্ধ ও অনন্য। এটি বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। ৩০ লাখ লোকের বসবাস এখানে। আর্মেনিয়ার আয়তন প্রায় ২৯ হাজার ৭০০ বর্গমাইল, যা আজারবাইজানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। অর্থনৈতিক অবস্থা বিচারে তৃতীয় বিশ্বের একটি অনুন্নত দেশই বলা চলে আর্মেনিয়াকে। তাদের তেল-গ্যাসের মতো মূল্যবান কোনো খনিজ সম্পদ নেই। তবে সোভিয়েত আমল থেকে শিল্পায়নে আজারবাইজানের চেয়ে এগিয়ে আছে আর্মেনিয়া।

পাশাপাশি দু’টি দেশ, একটি এগিয়ে, আরেকটি পিছিয়ে কেন? যখন কোনো অমুসলিম দেশ একটি মুসলিম দেশ দখল করে নেয় তখন তারা দখল করা দেশটিকে কেবল শোষণই করে আর শোষণের সুবিধার্থে ওই দেশকে অনুন্নত এবং মুসলিমদের আধুনিক লেখাপড়া ও জ্ঞানবিজ্ঞানে অশিক্ষিত করে রাখে। পতিত সোভিয়েতের সময় আজারবাইজানের বেলায় এ কাজটিই হয়েছে। সোভিয়েত শাসকরা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আজারবাইজানের সম্পদ ঠিকই ভোগ করেছে, কিন্তু শিল্পায়ন করেছে খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ আর্মেনিয়ায়। আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান স্বাধীন হওয়ার পর দেখা গেল, অস্ত্রশস্ত্রে আজারবাইজানের চেয়ে আর্মেনিয়া এগিয়ে আর আজারবাইজান সম্পদে, আয়তনে ও লোকসংখ্যায় অনেক বড় ও তেল গ্যাসসমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আর্মেনিয়ার চেয়ে দুর্বল।

আর্মেনিয়াই পৃথিবীতে সর্বপ্রথম খ্রিস্টান ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে গ্রহণ করে। দেশটিতে মুসলিমদের সংখ্যা পাঁচ হাজারের কম। আর পুরো আর্মেনিয়াজুড়ে রয়েছে একটিমাত্র মসজিদ, যেটিকে বলা হয় ব্লু বা নীল মসজিদ। এটি শিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদ।

আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে অবস্থিত মসজিদটি নির্মিত হয় ১৭৬৪-৬৮ সালের মধ্যে। অসাধারণ নকশাসমৃদ্ধ মসজিদটি ইরানি স্থাপত্যের অনন্য দৃষ্টান্ত। ইরানের শাসক নাদির শাহের আমলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। তখন আর্মেনিয়ায় ইরানের প্রভাব ছিল। চতুর্দশ শতকের পর থেকে আর্মেনিয়ায় বিভিন্ন মুসলিম শাসকদের নিয়ন্ত্রণ ছিল। ১৬ শতকের প্রথমার্ধ থেকে ১৯ শতক পর্যন্ত আর্মেনিয়ায় ইরানের শাহদের প্রভাব ছিল। এসময়ই মূলত মসজিদটি নির্মিত হয়।

মুসলিম ঐতিহাসিকদের মতে, সপ্তম শতকে মুসলমানরা আর্মেনিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে। মধ্যযুগে আর্মেনিয়াতে মুসলিম উপাদান ক্রমবর্ধমানভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

এক পাশ্চাত্য ঐতিহাসিকের মতে, উনিশ শতকের মাঝামাঝি ইয়েরেভানে আটটি মসজিদ ছিল। সেগুলো হলো- আব্বাস মির্জা মসজিদ (দুর্গের মধ্যে), মোহাম্মদ খান মসজিদ (দুর্গের মধ্যে), জালি খান মসজিদ, শাহ আব্বাস মসজিদ, নোভুজ আলী বেগ মসজিদ, নীল মসজিদ, হাজি ইমাম বরদি মসজিদ ও হাজি জাফর বেগ মসজিদ (হাজি নাসরুল্লাহ বেগ)। এর মধ্যে নীল মসজিদটিই অক্ষত রয়েছে। এটিও বহু বছর বন্ধ ছিল। পরে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং আর্মেনিয়ার স্বাধীনতার পর মসজিদটি পুনরায় চালু হয়।