জাপানি ভাষায় পবিত্র কোরআন অনুবাদ

জাপানি ভাষায় পবিত্র কোরআন অনুবাদের পরিচিতিমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী টোকিও গ্র্যান্ড মসজিদের তুর্কি কালচারাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন তুরস্কের ধর্মবিষয়ক প্রধান ড. আলি ইরবাশ। কর্মশালায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি কোরআনের অনুবাদ প্রকল্পে তুর্কি অবদানের কথা তুলে ধরেন।

ড. আলি ইরবাশ বলেন, দীর্ঘকাল ধরে পবিত্র কোরআনের বাণী বিশ্বের আনাচে-কানাচে পৌঁছে দিতে মুসলিমরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৪০টি ভাষায় পবিত্র কোরআন অনুবাদ কার্যক্রমে তুরস্কের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর তত্ত্বাবধান করেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে জাপানি ভাষায় পবিত্র কোরআনের অনুবাদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহত্তর পরিসরে অনুবাদের কপিগুলো পৌঁছে দিতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

জাপানে ইসলামের পদার্পণ হয় খ্রিস্টীয় ১৭ শতকে। জাপানে মুসলমানরা সংখ্যালঘু হলেও দেশটিতে ক্রমেই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা বাড়ছে। জাপানে গত এক দশকে মুসলিম জনসংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণের চেয়ে বেশি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে মসজিদের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। পূর্ব এশীয় দেশগুলোর মধ্যে জাপানে ইসলাম সব থেকে দ্রুতগতিতে বিস্তার লাভ করার খেতাবপ্রাপ্ত।

জাপানের ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটির টানাডা হিরোফুমির এক জরিপ অনুযায়ী, ২০১০ সালে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১০ হাজার। কিন্তু ২০১৯ সালের শেষের দিকে সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৩০ হাজারে। এর মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ধর্মান্তরিত হয়েছেন। জাপানে ২০০টির বেশি মসজিদ রয়েছে এবং কয়েকশ নামাজঘর রয়েছে।

তাতার মুসলিমরা ১৯৩৮ সালে রাজধানী টোকিওতে প্রথম মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু টোকিও মসজিদের আগেও জাপানে মসজিদ ছিল। রুশ-জাপান যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুসলিম সেনারা ১৯০৫ সালে ওসাকা দ্বীপে জাপানের প্রথম মসজিদ নির্মাণ করে। তবে মসজিদটির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। এ ছাড়া ১৯৩১ সালে নাগোয়াতেও একটি মসজিদ নির্মিত হয়, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ধ্বংস হয়ে যায়।