গোপন নথি নিজের কাছে রাখায় চাপে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির কেন্দ্রীয় সংস্থা জাতীয় আর্কাইভ ও নথি প্রশাসন এসব নথি বারবার চাইলেও বেশির ভাগই ফেরত দেননি তিনি। এ নিয়ে তার বাসভবনে তল্লাশিও চালায় এফবিআই। নথি মজুদের পেছনে কেবলই কি তার খামখেয়ালিপনা দায়ী নাকি অন্য কারণও রয়েছে? লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
এফবিআইয়ের তল্লাশি
নির্বাহী বিভাগের অধীনে সরকারি ও ঐতিহাসিক নথি সংরক্ষণ ও দলিলীকরণের দায়িত্বে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সংস্থা জাতীয় আর্কাইভ ও নথি প্রশাসন (এনএআরএ) দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সম্প্রতি গুরুতর কিছু অভিযোগ আনে। এসব অভিযোগের মধ্যে হোয়াইট হাউজের গোপন নথি খোয়ানো, ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-এ-লাগো বাসভবনে রাষ্ট্রের গোপন নথি লুকিয়ে রাখা উল্লেখযোগ্য। চলতি বছরের আগস্টের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই প্রেসিডেন্টের ফ্লোরিডার বাসভবনে তল্লাশি চালায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) গোয়েন্দারা। এর আগে নিজের কাছে রাখা গোপন সব নথি এনএআরএ’র কাছে ফেরত দিতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল। ওই আহ্বানে সাড়া দেননি ট্রাম্প। সহকারীদের দিয়ে কয়েকটি নথি ফেরত পাঠিয়ে বাকি সব নিজের কাছে রেখে দেন তিনি। বাকি নথিগুলো আগস্ট মাসে এফবিআইয়ের গোয়েন্দারা তার বাসভবন থেকে উদ্ধার করে। তবে ট্রাম্পের দখলে আরও নথি রয়ে গেছে কি না, এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না মার্কিন কর্মকর্তারা। ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের বাসভবনে তল্লাশি শেষে ১১ হাজারের বেশি সরকারি নথি ও ছবি পায় এফবিআই। কমপক্ষে ১৮টি টপ সিক্রেট, ৫৪টি সিক্রেট ও ২১টি কনফিডেনশিয়াল নথি ট্রাম্পের বাসভবন থেকে উদ্ধার করা হয়। এসব নথি নিজের কাছে রাখা ও চাওয়ার পরও দিতে অস্বীকৃতি জানানোএই দুই কারণে সাবেক প্রেসিডেন্ট এখন তদন্ত কর্মকর্তাদের মুখোমুখি।
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন রিপাবলিকান পার্টির নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ঠিক চার মাস পর মে মাসে জাতীয় আর্কাইভ ও নথি প্রশাসন ট্রাম্পকে জানায়, ক্ষমতা ছাড়ার আগে কমপক্ষে দুই ডজন বাক্স মূল নথি সাবেক এই প্রেসিডেন্ট সংস্থাটিকে ফেরত দেননি। ওই বছরের ডিসেম্বরে ট্রাম্পের দল সংস্থাটিকে জানায়, কয়েকটি নথি পাওয়া গেছে এবং সেসব অবিলম্বে ফেরত দেওয়া হবে। নথি কয়েকটি ওই মাসে ফেরত পাঠায় ট্রাম্পের দল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ঘোষণা দেয়, ট্রাম্পের নথিসংক্রান্ত বিষয়ে তারা তদন্ত শুরু করবে। দুই মাস পর এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্টও ট্রাম্পের নথিসংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। ওই মাসের শেষে হোয়াইট হাউজ কাউন্সেলস অফিস জাতীয় আর্কাইভ ও নথি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানায়, তারা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্পের কাছ থেকে পাওয়া নথি যেন এফবিআইকে দেখার অনুমতি দেয়। একপর্যায়ে এফবিআই জানতে পারে, এমন অনেক নথি রয়েছে যা জাতীয় আর্কাইভ ও নথি প্রশাসনকে দেননি ট্রাম্প। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আগস্টের ৮ তারিখে সাবেক প্রেসিডেন্টের বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়। ট্রাম্পের বাসভবনে এত বেশি সংখ্যক নথি পাওয়া যাবে, তা ভাবেননি গোয়েন্দারা। তা ছাড়া নথিগুলোর কয়েকটি এতটাই সংবেদনশীল ছিল যে, সেসব পর্যালোচনা করতে এফবিআই ও জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন পড়ে।
তল্লাশির দুই সপ্তাহ পর ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চলের আদালতকে ট্রাম্প অনুরোধ জানান, তার বাসভবন থেকে উদ্ধারকৃত নথি যেন স্বাধীন একজন নিষ্পত্তিকারী পর্যালোচনা করেন। আদালত সাবেক প্রেসিডেন্টের পক্ষে নির্দেশ দিয়ে জানায়, একজন নিষ্পত্তিকারী নথিগুলো পর্যালোচনার আগ পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থা সেগুলো দেখতে পারবে না। আদালতের যে বিচারক ওই নির্দেশ দেন, তাকে ট্রাম্পই নিয়োগ দিয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশে ট্রাম্প কিছুটা স্বস্তি পেলেও এর বিরুদ্ধে আপিল করলে তা টিকবে না। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত ফের শুরু হলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ আনার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
কোন আইন ভাঙলেন
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত মার্কিন কর্মকর্তারা যেসব অভিযোগ এনেছেন, তার মধ্যে প্রধান প্রেসিডেনশিয়াল রেকডর্স অ্যাক্ট (পিআরএ) লঙ্ঘন। সত্তরের দশকে পদত্যাগের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন যাতে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোপন নথি নষ্ট করতে না পারেন, সেজন্য পিআরএ আইনটি পাস করা হয়। পিআরএতে বলা রয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে থাকা সব নথি সরাসরি জাতীয় আর্কাইভ ও নথি প্রশাসনের কাছে যাবে। প্রেসিডেন্টের নথি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে।
নথিসংক্রান্ত তদন্তের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট আরেকটি বিষয়েও তদন্ত করছে। জাতীয় প্রতিরক্ষাবিষয়ক তথ্য সংগ্রহ, সরবরাহ বা হারানোর মাধ্যমে ট্রাম্প গুপ্তচরবৃত্তি আইন লঙ্ঘন করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, যেসব নথি নিয়ে কথা হচ্ছে, প্রেসিডেন্টের দপ্তর ত্যাগের আগেই সেগুলো প্রকাশযোগ্য বলে জানিয়ে দেন হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তাদের। সেই হিসেবে কোনো আইন ভঙ্গ করেননি তিনি। তার বক্তব্য যদি সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, তারপরও নথি হারানো, সরানো বা নষ্ট করার অভিযোগ থেকে রেহাই পাবেন না ট্রাম্প।
২০২১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বলে আসছেন, পরবর্তী অর্থাৎ ২০২৪ সালের নির্বাচনে ফের প্রার্থী হবেন তিনি। এর জন্য নিজেকে প্রস্তুতও করছেন তিনি। সাম্প্রতিক নথিসংক্রান্ত জটিলতা তার নির্বাচনকেন্দ্রিক হিসাব-নিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, তদন্তের ওপর নির্ভর করছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট আদৌ জেলে যাবেন কি না। গেলেও কতদিনের জন্য যাবেন, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফের দাঁড়াতে পারবেন কি না, তাও নির্ভর করছে তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বলা আছে, সাবেক কোনো প্রেসিডেন্ট সরকারি গোপন নথি নষ্ট করলে বা নিজের কাছে রাখলে তিনি আর নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না। তবে দেশটির বেশ কয়েকজন আইনজ্ঞের মতে, সংবিধান কখনো কখনো আইনকে প্রতিস্থাপন করতে পারে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রেসিডেনশিয়াল রেকডর্স অ্যাক্ট (পিআরএ) লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারাগারে যেতে হলে পরবর্তী নির্বাচনে তার লড়াই করতে সংবিধানিক কোনো বাধা নেই।
কেন নথি নিলেন
ডোনাল্ড ট্রাম্প কেন রাষ্ট্রের অত্যন্ত গোপন নথি নিজের কাছে রাখলেন, তার সম্ভাব্য তিনটি কারণ তুলে ধরেছেন মার্কিন সাংবাদিক টিমোথি এল অ’ব্রায়েন। তার মতে, প্রথম কারণ হতে পারে ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনা। নথিগুলো নিজের কাছে রাখলে আইনি ঝামেলায় পড়তে হতে পারে, এ নিয়ে তিনি সচেতন ছিলেন না। ক্ষমতায় থাকাকালে তার এ সংক্রান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতা মার্কিন কর্মকর্তারা দেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ইসরায়েলের দেওয়া গোপন তথ্য একবার যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বলে ফেলেন ট্রাম্প, যা ছিল নীতিবিরুদ্ধ। ওই ঘটনার দুই বছর পর উপদেষ্টাদের নিষেধ সত্ত্বেও ইরানের ব্যর্থ রকেট নিক্ষেপের সংবেদনশীল ছবি টুইটারে পোস্ট করে বসেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট। এ ছাড়া নথি বা দলিল সংরক্ষণের বিষয়েও ট্রাম্পের উন্নাসিকতার প্রমাণ বেশ কয়েকবার হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা পান। ২০১৮ সালে পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পকে সরকারি কাগজপত্র দিলে তিনি সেসব পড়ার পর ছিঁড়ে ফেলেন। এ নিয়ে একবার বেশ ঝামেলায়ও পড়তে হয় কর্মকর্তাদের। মার্কিন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাগজ তিনি স্বভাববশত ছিঁড়ে ফেললে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকে সেটি টেপ দিয়ে জোড়া লাগাতে বেশ বেগ পেতে হয়। দ্বিতীয় কারণ হতে পারে, ট্রাম্পের সীমাহীন অর্থলিপ্সা। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার সপ্তাহখানেক আগে কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্পের সমর্থকরা হামলা চালায়। ওই ঘটনায় তার ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্পের সমর্থকদের তাণ্ডবের সরাসরি সমালোচনা করে তাকে দূরে ঠেলে দেয় তার প্রধান করপোরেট অংশীদাররা। ব্যাংকগুলোও তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। হতে পারে, নিজের কাছে রাখা গোপন নথি বা দলিল বিক্রি করে বিপুল অর্থ উপার্জন করে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের সুনাম অক্ষুণœ রাখার আকাক্সক্ষাকে নথি সংরক্ষণের তৃতীয় কারণ হিসেবে দেখছেন সাংবাদিক অ’ব্রায়েন। ধারণা করা হচ্ছে, হারিয়ে ফেলা নথিসমূহে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মতো বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বার্তা চালাচালি ছিল।
তথ্যের প্রতি মোহ
আমেরিকান অলিগার্কস : দ্য কুশনারস, দ্য ট্রাম্পস অ্যান্ড দ্য ম্যারেজ অব মানি অ্যান্ড পাওয়ারের লেখক ও সাংবাদিক আন্দ্রিয়া বার্নস্টিন তার এক লেখায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে মজার কিছু তথ্য দেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প ও তার ব্যবসা নিয়ে কয়েক দশক কাজ করেছি আমি। সাবেক এই প্রেসিডেন্টের যে বিষয়টি আমাকে অবাক করেছে, তা হলো তথ্যের প্রতি তার চরম পর্যায়ের মোহ। ট্রাম্পের আশপাশের মানুষজনই এটি আমাকে প্রথম জানায়। তথ্যকে বরাবরই শক্তিশালী হিসেবে দেখে এসেছেন তিনি। ট্রাম্প জানেন, সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য মজুদের মূল্য কতখানি। নিজের স্বার্থে এসব তথ্য সময়মতো প্রকাশ করেন তিনি।’ এ প্রসঙ্গে ১৯৯৭ সালের এক ঘটনার কথা বলেন বার্নস্টিন। সে সময় নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক শহরে বড় এক ক্যাসিনোর মালিক ছিলেন ট্রাম্প। ওই বছর ৩৩০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এক টানেল প্রকল্প নিউ জার্সি প্রশাসন সমর্থন করলে ক্ষুব্ধ হন ট্রাম্প। তার ক্ষোভের কারণ, টানেলটি আটলান্টিক সিটির এক্সপ্রেসওয়ে থেকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্টিভ উইনের ক্যাসিনো পর্যন্ত যাবে। ট্রাম্প তার প্রতিদ্বন্দ্বী উইনকে আটলান্টিকে দেখতে চাননি। পুরো শহরের জুয়াব্যবসা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। তাই প্রকল্পটি থামাতে মামলা-মোকদ্দমা থেকে শুরু করে যা যা করা যায়, সবই তিনি করেন কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। টানেলের প্রকল্প অনুমোদন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন একদিন নিউ জার্সির সাবেক গভর্নর রিপাবলিকান পার্টির নেতা ক্রিস্টিন টড হুইটম্যানকে ফোন করেন ট্রাম্প।
টানেলের প্রকল্প সংক্রান্ত আলোচনার বছরখানেক আগে হুইটম্যানকে তার ছেলে টেলরের জন্য ঝামেলা পোহাতে হয়। টেলর তখন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পের মালিকানাধীন প্লাজা হোটেলে ব্যক্তিগত এক পার্টিতে টেলর অতিরিক্ত মদ খেয়ে জ্ঞান হারালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানেল প্রকল্প নিয়ে হুইটম্যানের সঙ্গে ফোনে আলোচনার একপর্যায়ে ট্রাম্প কয়েক বছর আগের সেই ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ‘আপনার ছেলে মাদকাসক্ত, এটা যদি সংবাদমাধ্যম জানতে পারে, তাহলে খুব খারাপ হবে।’ পরে এক সময় হুইটম্যান সাংবাদিক বার্নস্টিনকে বলেছিলেন, ‘ট্রাম্পের হুমকি আমাকে হতবাক করে। আমার ছেলের স্কুলের পার্টিটি ব্যক্তিগত ছিল। ট্রাম্প ওই ঘটনা কীভাবে জানল এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। তবে একটি বিষয় আমার কাছে পরিষ্কার। নিজের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে কী হচ্ছে, এ সংক্রান্ত সংবেদনশীল সব তথ্য লোকজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন ট্রাম্প।’
সাংবাদিক বার্নস্টিন বলেন, ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা আমাকে জানান, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করতে পছন্দ করেন। এটি তাকে আনন্দ দেয়। কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে ট্রাম্প চাঞ্চল্যকর তথ্য পেলে তিনি ওই ব্যক্তিকে জানান, সব জেনে গেছেন তিনি। এতে ব্যক্তিটি ঘাবড়ে যায়। দুর্বল মুহূর্তে লোকজনের কর্মকাণ্ডের তথ্য জেনে ট্রাম্প পুলক বোধ করেন। আবার তিনি যে জানেন এটা যখন ওই ব্যক্তিরা জেনে যান, তখন ট্রাম্পের পুলক আরও বেড়ে যায়। এসব তথ্য সুযোগ বুঝে ব্যবহার করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। দরকার পড়লে চাপেও রাখেন। যেমনটা তিনি করেছিলেন নিউ জার্সির সাবেক গভর্নর হুইটম্যানের বেলায়।’