অত্যাধুনিক লেয়ার মুরগির খামার করে সফল হয়েছেন নরসিংদীর শিবপুর এলাকার খামারি সাবেক মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী রাকিব খান। জীবনের নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে অবশেষে নিজের স্বপ্নপূরণে হয়েছেন সফল।
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরে সফল খামারিদের পরামর্শে সিমেন্ট শিট দিয়ে খামার গড়ে তোলার পর থেকে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে খামারের আয়তন। দিন দিন লাভবান হতে শুরু করেন। বর্তমানে তিনি নরসিংদী এলাকায় একজন সফল খামারি হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন।
আলাপকালে খামারি রাকিব খান বলেন, পড়াশোনা শেষে জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমাই মধ্যপ্রাচ্যে কিন্তু ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো খামারি হওয়ার, মাটির টানে মাটির কাছে থাকার। তাই লিবিয়ার বেনগাজি শহরে একটি জার্মান কোম্পানিতে কর্মরত অবস্থায় কাজ শেষে ছুটে যেতাম বাসার পাশের একটি পোলট্রি খামারে। আলাপচারিতা হতো লিবিয়ার খামারিদের সঙ্গে। আমার সঙ্গে কর্মরত অন্য বাঙালি ভাইয়েরা যখন কর্মব্যস্ত দিন শেষে বিশ্রাম নিত, আমি থাকতাম মুরগির খামারে। আলাপচারিতায় জানতে পারি বেনগাজির বেশির ভাগ মুরগির শেড সিমেন্ট শিট দিয়ে তৈরি।
রাকিব খান বলেন, আমি ওই সব খামারিদের জিজ্ঞেস করলাম ভাই, সিমেন্ট শিট দিয়ে শেড করেছেন কেন? উত্তরে তারা বলেন, লিবিয়ায় প্রচণ্ড তাপে টিনের তৈরি শেডে মুরগির মৃত্যুর হার অনেক বেশি। তাই হিট স্ট্রোক মুরগির মৃত্যুহার কমাতেই শেডে ব্যবহৃত হয় সিমেন্ট শিট। সিমেন্ট শিট ব্যবহারে গরমে মুরগির ঘর ঠান্ডা আর শীতে গরম থাকে। তা ছাড়া মুরগির ঘরে লিটারের একটা গ্যাস বের হয়। এই গ্যাসের কারণে সাধারণ টিনগুলোয় দ্রুত মরিচা ধরে। কিন্তু সিমেন্ট শিটে যুগ যুগ চলে যায়, মরিচা ধরে না। এ ছাড়া আরও অনেক সুবিধা আছে।
তিনি বলেন, আমিও সিদ্ধান্ত নেই যে, দেশে ফিরে তাদের মতো করে সিমেন্ট শিট দিয়ে নিজের স্বপ্নের খামার তৈরি করব। তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে দীর্ঘ বারো বছরের প্রবাস জীবন শেষে আমি দেশে ফিরি নিজের খামার শুরুর স্বপ্ন নিয়ে। দেশে এসে টিভি বিজ্ঞাপন দেখে আনোয়ার শিটের খোঁজ পাই। ২০১৮ সালে আমি আনোয়ার শিট দিয়ে মুরগির শেড তৈরি করি। আনোয়ার শিটে শেড করায় গরমে শেডটা অনেক ঠান্ডা থাকে। আর শেড যদি ঠান্ডা থাকে, মুরগি খাবার খায় ঠিকমতো। এর ফলে মুরগির ডিমের উৎপাদনও বেড়ে যায়। হিট স্ট্রোক মৃত্যুহার অনেক কমে যায়। ২০১৮ সালে আমি শুরু করেছিলাম ২ হাজার লেয়ার মুরগি দিয়ে। এখন আমার ১০ হাজার লেয়ার মুরগি আছে। প্রডাকশনে আছে ৯ হাজারের বেশি। এতে আমার প্রতিদিন ডিম আসে ৮ হাজারের মতো। সাধারণ সি আই শিটের শেডে একটি লেয়ার মুরগি পঁচাত্তর সপ্তাহ ডিম দিলেও আনোয়ার শিটের শেডে একটি মুরগি থেকে ডিম পাই পঁচানব্বই থেকে এক শ সপ্তাহ পর্যন্ত।
রাকিব খান জানান, মাঝে অতিরিক্ত যে গরমটা গেল আনোয়ার শিট লাগানোর কারণে আমার একটা মুরগিও মারা যায়নি, কোনো সমস্যা হয়নি। এ ছাড়া আনোয়ার শিটের শেডে রাখলে মুরগির অসুখ বিসুখ অনেকখানি কমে যায়, ফলে ওষুধ ও ভ্যাকসিন খরচ কমে যায় ৩০% পর্যন্ত এবং লাভের পরিমাণ বেড়ে যায়।
এ খামারি নতুন ও তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি নতুন ও তরুণদের উদ্দেশ্যে এ কথাটাই বলতে চাই, আপনারা আনোয়ার শিট দিয়ে খামার করেন। যেহেতু আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, আমার খামারে মুরগি ভালো আছে আপনাদের মুরগিও ইনশা আল্লাহ ভালো থাকবে। মুরগি যদি ভালো থাকে তাহলে ব্যবসাও সফল হবে।