মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে দর্শক ছিল ৬০ হাজারের বেশি। তাদের নিরাশ করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গতকাল বাংলাদেশ সময় সকালে হয়ে যাওয়া প্রীতি ম্যাচে হন্ডুরাসের বিপক্ষে মেসি করেছেন জোড়া গোল। তার দ্বিতীয় গোলটি চোখে লেগে থাকার মতো। ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতেছে ৩-০তে। এ নিয়ে টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত আলবিসেলেস্তেরা। তার আগে রাতে আরেক প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্সের লে হাভরেতে ব্রাজিল মুখোমুখি হয়েছিল ঘানার। রিচার্লিসনের জোড়া গোলে ব্রাজিলও জিতেছে ৩-০তে। গোল না পেলেও দারুণ খেলে দুই অ্যাসিস্ট নেইমারের।
হন্ডুরাস মধ্য আমেরিকার দেশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে বেশিরভাগ দর্শক যে হন্ডুরাসের খেলা দেখতে যাননি তা বলাই যায়। মেসির ভক্ত তো দুনিয়াজুড়েই। ম্যাচের ১৬ মিনিটে মেসির বুদ্ধিদীপ্ত পাসে বাঁ প্রান্তে ফাঁকায় বল পান আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড পাপু গোমেজ। তার ক্রস থেকে গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। জিওভান্নি লো সেলসোর জার্সি ডিফেন্ডার মার্সেলো টেনে ধরলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। ৬৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। তার নেওয়া শটটি পৃথিবীর কোনো গোলকিপার ঠেকাতে পারতেন কিনা সন্দেহ আছে। বুলেট গতির কোনো শট নেননি। এনজো ফার্নান্দেজ বক্সের মুখে পাস বাড়ান মেসির দিকে। মেসি বক্সের বাইরে থেকে বলে এমনভাবে কিক নিলেন যাকে পুরোপুরি ‘চিপ’ বলা যায় না আবার চিপের মতোও। হন্ডুরাস গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে জালে। হন্ডুরাসের গোলরক্ষক ডিবক্সে কিছুটা এগিয়ে ছিলেন।
আর্জেন্টিনার হয়ে এ নিয়ে ১৬৩ ম্যাচে ৮৮ গোল হলো মেসির। দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ইতিহাসে মেসিই সর্বোচ্চ গোলদাতা। ম্যাচ শেষে মেসি বিশ্বকাপ নিয়ে বলেন, ‘আমাদের অনুভূতি আর তাদের (সমর্থক) অনুভূতি একই। তবে শান্তও থাকতে হবে। যদিও আমাদের ভালো একটা দল আছে, কিন্তু মনে রাখতে হবে, বিশ্বকাপ সব সময়ই বিশেষ কিছু। এখানে ধাপে ধাপে এগোতে হবে।’ এই মৌসুমে ক্লাব পিএসজির হয়ে ১১ ম্যাচে করেছেন ৬ গোল, ৮ অ্যাসিস্ট। জাতীয় দলের হয়েও শেষ দুই ম্যাচে ৭ গোল মেসির। এর আগে এস্তোনিয়ার বিপক্ষে করেছিলেন পাঁচটি। অথচ পিএসজিতে যাওয়ার পর প্রথম মৌসুমটা বাজে কেটেছিল মেসির। সেই প্রসঙ্গ টেনে মেসি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় ভালো লাগছে। এর মধ্যে বলেছিও, গত বছরটা আমার বাজে গেছে। তবে নিজেকে ফিরে পাওয়ার পথটা আমি হারিয়ে ফেলিনি। এ বছর ভিন্নভাবে ফিরেছি। ক্লাবে, লকার রুমে, খেলার মধ্যে, সতীর্থদের সঙ্গে আরও মানিয়ে নিয়েছি। আসলেই আমার এখন ভালো লাগছে। নিজেকে আবার উপভোগ করতে পারছি।’ বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে আর্জেন্টিনা খেলবে জ্যামাইকার বিপক্ষে।
লে হাভরেতে ম্যাচের ৯ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার মার্কিনহোস। রিচার্লিসন গোল করেন ২৮ ও ৪০ মিনিটে। দুটি গোলই বানিয়ে দেন নেইমার। প্রথমটি ডান পাশ থেকে ক্রস করেন নেইমার। দ্বিতীয়টি, নেইমারের ফ্রি-কিক থেকে হেডে গোল। পুরো ম্যাচে সতীর্থদের আরও বল বানিয়ে দেন গোলের জন্য। দারুণ ড্রিবলিংও করেছেন। বিশ্বকাপের আগে নেইমারকে এমন ছন্দে দেখা সেলেকাও সমর্থকদের জন্য আনন্দের।
ম্যাচ শেষে নেইমার বলেন, ‘সবাইকে বলেছি এভাবে (ঘানা ম্যাচের মতো) খেলতে চাইলে সবাইকে সংঘবদ্ধ হয়ে খেলতে হবে। একে অপরকে সাহায্য করতে হবে, রক্ষণও সামলাতে হবে, দৌড়াতে হবে। সেটা হচ্ছে দেখে ভালো লাগছে। এই দলে কারও অহংকার নেই, এটা অহংকার ছাড়া দল, যেখানে সবার মধ্যে ভালো সম্প্রীতি আছে। যারা খেলছে এবং যারা বাইরে আছে, সবাই বন্ধু।’