বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন, মহালয়া আজ রবিবার। এ দিন থেকে দেবী পক্ষের শুরু। এই পুণ্যলগ্নে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকে পা রাখবেন। মহালয়ার পর থেকে দিন গণনার মধ্যে দিয়ে ষষ্ঠীতে দুর্গা পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
হিন্দু শাস্ত্রমতে, চন্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গার আবাহনই মহালয়া নামে পরিচিত। মহালয়ার আক্ষরিক অর্থ ‘আনন্দ নিকেতন’।
পুরাণমতে, অসুর ও অশুভ শক্তির কাছে দেবতারা যখন পরাভূত হয়ে স্বর্গলোকচ্যুত হন তখন চারদিকে শুরু হয় অশুভ শক্তির প্রবল প্রতাপ। সেই অশুভ শক্তি কে পরাভূত করতে একত্রিত হন দেবতারা। এ সময় তাদের তেজরশ্মি থেকে আভির্ভূত হন অসুরবিনাশী দেবী দুর্গা। মহালয়ায় থাকে ঘোর অমাবস্যা। দুর্গা দেবীর তেজের আলোয় সেই অমাবস্যা দূর হয়ে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠা পায়।
বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার ১৪ আশ্বি^ন (১ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীতে দেবীর আবাহন ও বোধনের মাধ্যমে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ১৫ আশি^ন (২ অক্টোবর) মহাসপ্তমী, ১৬ আশি^ন (৩ অক্টোবর) মহাষ্টমী, ১৭ আশ্বিন (৪ অক্টোবর) মহানবমী এবং ১৮ আশ্বিন (৫ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শেষ হবে।
মহালয়ায় আজ ভোর থেকে রাজধানীসহ সারা দেশের স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপগুলোতে চন্ডীপাঠ ও অর্চনার মাধ্যমে দুর্গা দেবীকে আহ্বান করা হবে। এছাড়া প্রয়াত পূর্ব পুরুষদের স্মরণ করে তর্পণ করা হবে। এ উপলক্ষে জাতীয় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন, ঘট স্থাপন, চন্ডীপাঠ, পূজা, আরাধনা ও ধর্মীয় সংগীত অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার ড. বিনয় জর্জ।
ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মহালয়ার পাঁচ দিন পর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবের পাঁচ দিনের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইতিমধ্যে মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আশা করি নির্বিঘ্নে পূজা ও অনুষ্ঠান হবে।’