সিদ্ধিরগঞ্জে ফুটওভার ব্রিজে জ¦লছে না বাতি, লাগেনি টাইলস

কাজ শেষ না করেই ৮ কোটি টাকা বিল তুলে নিয়েছেন ঠিকাদার

নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের তিনটি প্যাকেজে ১০টি ফুটওভার ব্রিজের কাজ শেষ না করেই ৭ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার সমুদয় বিল নিয়ে গেছেন ঠিকাদার। বিল তুলে নেওয়ার চৌদ্দ মাস পার হলেও এসব ফুটওভার ব্রিজে লাগানো হয়নি টাইলস ও বাতি, বসানো হয়নি কোনো সোলার প্যানেল কিংবা প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম।

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়, সানারপাড়, মৌচাক, রাজধানীর কদমতলী থানার মাতুয়াইল, রায়েরবাগ, শনির আখড়া ও সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়ায় পুরনো নয়টি ফুটওভার ব্রিজ আধুনিকায়ন ও কাজলায় একটি নতুন নির্মাণ করা হয় ২০২০-২১ অর্থবছরে। যার ব্যয় ধরা হয় ৭ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। এসব ফুটওভার ব্রিজের ছাউনি, সিঁড়িতে টাইলস, বাতি, সোলার প্যানেল, পুরনো বিম পরিবর্তন করে বিদেশের তৈরি বিম লাগানোর কথা।

দরপত্র অনুযায়ী, একটি প্যাকেজে শিমরাইলের দুটি ও মোগড়াপাড়ায় একটিতে ২৫০ ওয়াটের ইতালির তৈরি ৪৮টি বাতি লাগানোর জন্য বিল দেওয়া হয় প্রতিটি ১৭ হাজার ৫৮১ টাকা করে মোট ৮ লাখ ৪৩ হাজার ৯০৬ টাকা। সিঁড়িতে টাইলস বসানোর জন্য বিল দেওয়া হয় ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪১ টাকা। শিমরাইল মোড়ের পূর্ব পাশের সেতুর পুরনো বিম পরিবর্তন করে বিদেশে তৈরি নতুন বিম লাগানোর জন্য বিল দেওয়া হয় ২৩ লাখ ৩ হাজার ৯৬৭ টাকা। অথচ ওই তিন সেতুতে বাতি, টাইলস এখন পর্যন্ত লাগানো হয়নি।

অপর আরেকটি প্যাকেজে মৌচাক, সানাড়পাড়, মাতুয়াইল, রায়েরবাগ ও শনির আখড়ার ছয়টি ব্রিজে মোট ৭২টি ইতালির তৈরি ২৫০ ওয়াটের মেটাল লাইট লাগানোর জন্য প্রতিটি ১৯ হাজার ৯৫০ টাকা করে মোট ১৪ লাখ ৩৬ হাজার ৪০০ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। রায়েরবাগ ও মাতুয়াইল ব্রিজে টাইলস লাগানোর জন্য বিল দেওয়া হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার ৮২২ টাকা। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের জন্য বিল দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৯৯২ টাকা। অথচ এই সেতুগুলোতে এসব কিছুই দেখা যায়নি।

আরেক প্যাকেজে কাজলায় নতুন ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে ২৫০ ওয়াটের ৩০টি ইতালিয়ান মেটাল লাইট লাগানোর জন্য প্রতিটি ২০ হাজার ৯৩ টাকা করে ৬ লাখ ২ হাজার ৭৯০ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। সোলার প্যানেল বসানোর জন্য ৯৪ হাজার ৪১৬ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। ১০০ বর্গমিটার টাইলস লাগানোর জন্য ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৭৯ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। তবে এখানে নিম্নমানের কিছু টাইলস লাগানো হলেও লাইট ও সোলার প্যানেল দেখা যায়নি। সেতুটিতে বৈদ্যুতিক সংযোগই নেই।

অথচ ওই সব সরঞ্জাম না লাগিয়েই কাজ শেষ দেখিয়ে ২০২১ সালের ৩০ জুন ৭ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা বিল নিয়ে গেছে কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজিস লিমিটেড, এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড নামের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজিস লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান বলেন, ‘কাজটি দেড় বছর আগেই শেষ হয়েছে। দরপত্রে যেভাবে করার কথা ছিল, সেভাবেই করা হয়েছিল। মনে হয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে। তবে আমি নিশ্চিত না। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’ বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সিকিউরিটি বিল বাকি আছে। ফাইনাল বিল তোলা হয়ে গেছে।’

নারায়ণগঞ্জ সড়ক উপবিভাগ-১-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন শামীম বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজগুলোতে বিদ্যুতের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। টাইলস লাগানোর বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। সিঁড়িতে টাইলস ও ব্রিজে বাতি লাগানোর কাজ শেষ না হতেই বিল পরিশোধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে কিছু বলতে অপারগতা জানান।

নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহানা ফেরদৌস বলেন, ‘এক সপ্তাহ হয় যোগদান করেছি। কাজে অনিয়ম হয়ে থাকলে খতিয়ে দেখা হবে। কাজ শেষ না করে বিল নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’