দেড়মাসেই ভেসে গেল করতোয়ায় মেহেদির রং

বিয়ে হয়েছে মাত্র দেড়মাস। বধূটির হাতে মেহেদির রং। তখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি। নববধূ বন্যা তীরে উঠলেও স্বামী হিমালয়ের খোঁজ নেই। স্বামী হারিয়ে পাগলপ্রায় বন্যা।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের আউলিয়ার ঘাট এলাকায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবি ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু এখনও খোঁজ মেলেনি বন্যার স্বামী হিমালয়ের।

হিমালয়ের খোঁজে করতোয়ার তীরে অপেক্ষমাণ তার দুলাভাই গ্রি বাবু জানান, শারদীয় দুর্গোৎসবের আগে মহালয়ায় পুণ্য অর্জনের জন্য পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের করতোয়ার পূর্ব পাড়ে বদেশ্বরী মন্দির দর্শনের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন তারা। করতোয়া নদী পাড়ি দিয়ে ওপারে মন্দিরে গিয়ে করতোয়ার পানিতেই পুণ্যস্নান করে পাপমুক্তির আশা ছিল তাদের। কিন্তু নৌকাডুবির ঘটনায় তাদের সে প্রত্যাশা নদীর পানিতে ভেসে গেছে। মাঝনদীতে নৌকা উল্টে অন্য অনেকের সঙ্গে পানিতে পড়ে যান এই নবদম্পতি। উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে নিজের পরনের কাপড় ছুড়ে দিয়ে তীরে ওঠেন বন্যা। কিন্তু খোঁজ মেলেনি হিমালয়ের। বাকি জীবন একসঙ্গে চলার প্রতিজ্ঞাকে সংশয়ে ফেলে হিমালয় এখনও নিখোঁজ। স্বামীর প্রতীক্ষায় পানিতে চোখ ভাসাচ্ছেন বন্যা।

শ্যালকের খোঁজে মধ্যরাত অবধি করতোয়ার তীরে অপেক্ষা করে গিয়ে ভোরে আবারও এসেছেন করতোয়া পাড়ে। কিন্তু হিমালয়ের খোঁজ মেলেনি।

হিমালয়ের বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি খালপাড়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের বীরেন্দ্রনাথ-সারদা রানীর ছেলে। দেড় মাস আগে হিমালয়ের বিয়ে হয় বন্যা রানীর সঙ্গে। মহালয়ার অনুষ্ঠানে পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে এক নৌকায় ছিলেন তারা। বন্যা সাঁতরে তীরে উঠলেও হিমালয় ও তার মামাতো বোন আঁখি (১৬) এখনও নিখোঁজ।হিমালয়ের বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি খালপাড়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের বীরেন্দ্রনাথ-সারদা রানী দম্পতির ছেলে। দেড় মাস আগে হিমালয়ের বিয়ে হয় বন্যা রানীর সঙ্গে। মহালয়ার অনুষ্ঠানে পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে এক নৌকায় ছিলেন তারা। বন্যা সাঁতরে তীরে উঠলেও হিমালয় ও তার মামাতো বোন আঁখি (১৬) এখনও নিখোঁজ।