চার বছর পর মাঠে গড়াচ্ছে জাতীয় যুব হকি

যুব হকির সবশেষ আসরটি হয়েছিল ২০১৭ সালে। নিয়মানুযায়ী প্রতি বছরেই লিগ হওয়ার কথা। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে লিগটি আর মাঠেই গড়ায়নি। পরের বছরে অংশ নেওয়ার কথা ছিল যাদের, তাদের বেশিরভাগেরই বয়স পেরিয়ে গেছে। হকি ফেডারেশন অন্তঃকোন্দল আর পৃষ্ঠপোষকের অভাবে গত চার বছর আলোর মুখ দেখেনি লিগটি। অবশেষে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের নয়টি ভেন্যুতে শুরু হবে আঞ্চলিকপর্ব। চলবে ১৮ অক্টোবর। এরপর ১৮টি দল নিয়ে ঢাকায় হবে চূড়ান্তপর্ব।

দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি ব্যাংক আল আরাফাহ ইসলামি ব্যাংক প্রায় দেড় কোটি টাকার পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে এগিয়ে আসায় এবার মাঠে গড়াবে অনুর্ধ্ব-১৮ বয়সীদের এই আসর। যেখানে অংশ নেবে ৫৭টি দলের ৯১২ জন খেলোয়াড়।

এটি হতে যাচ্ছে যুব হকির ২৭তম আসর। ৫২টি জেলা ছাড়াও চারটি শিক্ষা বোর্ড ও বিকেএসপি অংশ নিবে এই আসরে। হকি ফেডারেশনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই আসরের বিস্তারিত তুলে ধরেন হকি ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ। এ সময় পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আল আরাফাহ ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাব্বির আহমেদ ও হেড অব পিআর জালাল আহমেদ।

বড় স্পন্সর আসায় এবার এই আসরকে স্বার্থক করতে বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে হকি ফেডারেশন। আঞ্চলিকপর্বে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ছাড়াও খেলোয়াড়দের ক্রীড়া সরঞ্জামাদী দিচ্ছে ফেডারেশন। এছাড়া এই আসর থেকে ১০০ জন খেলোয়াড় বাছাই করে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

আঞ্চলিকপর্বের খেলাগুলো হবে ঢাকা, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, নড়াইল, খুলনা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও জয়পুরহাটে অনুষ্ঠিত হবে।

মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘আমরা এবার বড় লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছি। যুব হকি থেকে শুরুতে ১০০ খেলোয়াড় বাছাই করবো। তারপর সেখান থেকে ৪০ জন খেলোয়াড় চূড়ান্ত করা হবে। তাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ট্রেনিং চলবে। আমরা চাইছি ওরা জাতীয় দলের ব্যাকআপ হিসেবে গড়ে উঠুক। ডিসেম্বরে বিকেএসপিতে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হবে। সেখানে ওরা হকি ফেডারেশনের ব্যানারে অংশ নেবে।’

আল আরাফাহ ব্যাংক এ বছরের জন্যই পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। এই আসরে প্রতিভা বাছাইয়ের উদ্যোগ যদি সফল হয় তবে ভবিষ্যতে হকির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তা।