কাঠমুন্ডুর দশরথ রঙ্গশালায় নেপালকে হারিয়ে হিমালয়ের বুকে ফুটবলের ফুল ফুটিয়েছেন সাবিনা খাতুনরা। কিন্তু এই সাফল্য যাত্রার শুরুটা সহজ ছিল না। নানা কটু কথা শুনতে হয়েছিল বাফুফেকে। খেলোয়াড়দেরকে এবং তাদের পরিবারকেও এলাকায় অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছে। কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনকে তার বন্ধুরা খোঁচা দিতেও ছাড়েননি। সেই দল আজ দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন। ২০১৬ সালে তাদের সাফ জয়ের মিশন শুরু হয়েছিল। কোচ ছোটনের আশা আগামীতে এই দল আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।
দেশের স্বনামধন্য রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট— দেশের প্রথম প্রিমিয়াম মেগা গেইটেড কমিউনিটি ‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’য় সাফজয়ী নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা দিচ্ছে রূপায়ণ গ্রুপ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি ফুটবলকে এগিয়ে নিতে ফেডারশনের পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচের মতে সাফ জয় মেয়েদের আরও বড় সাফল্য জয়ে অনুপ্রাণিত করবে। শুভেচ্ছা বক্তব্যে ছোটন বলেছেন, ‘আমি মনি করি এখান থেকে মেয়েরা অনুপ্রাণিত হবে। সামনে তারা আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। আসলে আমাদের এই যাত্রাটা সহজ ছিল না। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ দক্ষিণ এশিয়া জয় হয়েছে।’
সাফ জয়ের পথে সহযোগিতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই অর্জন সম্ভব ছিল না। এখানে বাফুফের সর্বাত্মক সহযোগিতা কাজ করেছে। সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ সবসময় মেয়েদের সঙ্গে থেকে তাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমর্থনও ছিল এই যাত্রা পথে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবসময় এই দলকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। যখনই আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়ে এসেছি তখনই তার বাসভবনে নিয়ে মেয়েদের পুরস্কৃত করেছেন, এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছেন।’
সবার সহযোগিতা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি মেয়েরাও তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করেছেন উল্লেখ করে ছোটন বলেন, নারী ফুটবলাররা ক্যাম্পে দীর্ঘদিন একসঙ্গে থেকে কঠোর অনুশীলন করেছেন। যার ফলে আজ আমরা সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এই জয়ের ভিত্তি একদিনে তৈরি হয়নি। আমরা এএফসি রিজিওনাল চ্যাম্পিয়ন হয়েছি ২০১৫ সালে। এরপর তাজিকিস্তানে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। ২০১৭ সালে অনুর্ধ্ব-১৫ শিরোপা জিতেছি।’
ছোটন যোগ করেন, ‘আমরা ১৬ সালে কোয়ালিফাই করার পর সভাপতি উপলব্ধি করতে পারলেন, দীর্ঘমেয়াদী ক্যাম্প ছাড়া এখানে ভালো করা সম্ভব না। ৬ বছর আগের অক্টোবরে ৩৫ জন প্রতিভাবান ফুটবলারদের নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল বাফুফে একাডেমিতে। সেখানে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলি স্ট্র্যাটেজিসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। সবার সার্বিক সহযোগিতায় এই জয় সম্ভব হয়েছে।’
এই মেয়েরা একদিন এশিয়া জয় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় এই জায়গায় আমরা আসতে পেরেছি বলেই দক্ষিণ এশিয়ার ১ নম্বর দল হয়েছি। ৬ বছরে আমরা দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি। আশা করি আগামী ৬ বছর যদি আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি তবে আরও বড় সাফল্য নিয়ে আসতে পারব। এই মেয়েরা সাফল্য অর্জনের জন্য ক্ষুধার্থ। তাদেরকে এভাবে যদি আমরা সহযোগিতা করে যেতে পারি তবে একদিন তারা আমাদেরকে এশিয়া জয়ের আনন্দে ভাসাবে।’