মানুষের যুদ্ধে ভুগছে প্রকৃতি

ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ অভিযানের শুরু থেকেই ইউরোপে জ¦ালানি সংকটে নর্ড স্ট্রিম শব্দটি আলোচনায় আছে। বাল্টিক সাগরের তলদেশ দিয়ে ইউরোপে চলে যাওয়া রাশিয়ার দুটি প্রধান গ্যাস পাইপলাইন হলো নর্ড স্ট্রিম-১ ও নর্ড স্ট্রিম-২।

ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র এখন ইউক্রেন ছাড়িয়ে বিস্তৃত হয়েছে বাল্টিক সাগরে। রাশিয়া-ইউরোপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি গ্যাস পাইপলাইনেই দেখা যাচ্ছে রহস্যময় লিক বা ছিদ্র। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ দুই লাইনের ডেনমার্ক ও সুইডেন অংশে অন্তত চারটি লিক শনাক্ত হয়েছে। এসব লিকের জন্য ইউরোপ এবং রাশিয়া নাশকতাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সুইডেন-ডেনমার্ক সরাসরি রাশিয়াকে দোষ না দিলেও ইউক্রেন বলছে এসব রাশিয়ার হামলায় হয়েছে। কিন্তু রাশিয়া বলছে, পাইপলাইনে যেখানে লিক হয়েছে সেই এলাকাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করে এবং এসব তাদের চক্রান্ত। গ্যাস লাইনে কে লিক করল এ দোষারোপের মধ্যে সবচেয়ে বিপদে আছে জলবায়ু পরিবর্তনে ধুঁকতে থাকা পৃথিবী।

কারণ গ্যাসলাইনের এসব লিক দিয়ে সাগরে ছড়াচ্ছে বিপুল পরিমাণ মিথেন গ্যাস। ক্ষতিকর এ গ্যাস নিঃসরণের মাত্রা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। বাল্টিক সাগরের পরিবেশ-প্রতিবেশও পড়েছে হুমকির মুখে। এতে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং দেখা দিয়েছে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা।

ডেনমার্কের জ্বালানি সংস্থার প্রধান ক্রিসটোফার বতজাউ বলেছেন, ‘ছিদ্রগুলো থেকে যে পরিমাণ গ্যাস বের হচ্ছে তা ডেনমার্কের বার্ষিক মোট কার্বন নিঃসরণের ৩২ শতাংশ! পাইপলাইনের লিক খুবই বড় এবং নর্ড স্ট্রিম-২ দিয়ে গ্যাস বেরোনো বন্ধ হতে সম্ভবত এক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে।’

দুটি পাইপলাইনেই প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে। এ গ্যাসের বেশিরভাগটাই মিথেনের সংমিশ্রণ। কার্বন ডাইঅক্সাইডের পর গ্রিনহাউজ গ্যাস হিসেবে মিথেনই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।

অলাভজনক ‘ক্লিন এয়ার টাস্ক ফোর্স’-এর রসায়নবিদ ডেভিড ম্যাককেব হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, ‘পাইপলাইন দুটো ঠিক না হলে প্রভাব হবে নজিরবিহীন ও বিপর্যয়কর।’

গ্রিনহাউজ গ্যাস বিশেষজ্ঞরা বলছেন,  দুটি পাইপলাইনেই মিথেনের আধিক্য থাকায় এ গ্যাস নিঃসরণে ক্ষতির ঝুঁকি খুবই বেশি এবং এ বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করেন তারা।

বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়িয়ে দিতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের তুলনায় ৮০ শতাংশেরও বেশি আগ্রাসী মিথেন গ্যাস। আগামী কয়েক বছরে মিথেন গ্যাস নিঃসরণ একলাফে অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারলে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করা যাবে বলে মনে করেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।