জাতীয়করণের তালিকায় ‘কাগুজে’ দুই শিক্ষক

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা সদরে অবস্থিত সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশন। জিএমসি মানে গুরা মিয়া চৌধুরী। এটি পেকুয়া উপকূলের সবচেয়ে পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০১৮ সালে স্কুলটি জাতীয়করণ হয়।

জাতীয়করণের পর শাহাব উদ্দিন ও আজিজা খানম নামে দুজনকে শূন্যপদে এনটিআরসির সুপারিশক্রমে নিয়োগ দেওয়া হয়। আজ পর্যন্ত ওই দুই শিক্ষক স্কুলে আসেননি। অথচ তারা কাগজে-কলমে পেকুয়া সরকারি মডেল জিএমসির নিয়মিত শিক্ষক! জাতীয়করণের তালিকায় দুজনের নামও এসেছে। তারা দুজনই অন্য দুটি সরকারি এবং বেসরকারি (এমপিওভুক্ত) স্কুলে কর্মরত এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলছেন। পেকুয়া জিএমসির শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি এখন জাতীয়করণের পথে। 

জানা গেছে, দুই শিক্ষক্ষের মধ্যে আজিজা খানম শেফা চট্টগ্রামের রেলওয়ে পাবলিক হাইস্কুলে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক পদে কর্মরত। আর শাহাব উদ্দিন পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের আখতারুজ্জামান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি করছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পেকুয়া জিএমসি স্কুল জাতীয়করণের পর চলতি বছরের ১৬ মার্চ শিক্ষক-কর্মচারীদের ১৫টি পদ সৃজনে সম্মতি দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ১৫টি পদের মধ্যে বিদ্যালয়ে ১৩টি পদে আগে থেকে জনবল রয়েছে। আর দুটি পদে জনবল নেই। এরপরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ে আসেন না এমন দুজন শিক্ষকের নাম জাতীয়করণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে মাউশিতে পাঠিয়েছে। মাউশি থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনও হয় পেকুয়া জিএমসির শিক্ষক-কর্মচারীদের তালিকা। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে পেকুয়াজুড়ে সৃষ্টি হয় তোলপাড়।

জানা যায়, জিএমসিতে জাতীয়করণের জন্য অন্তর্ভুক্ত শাহাব উদ্দিন ২০২২ সালের ৩০ জানুয়ারি উজানটিয়া ইউনিয়নের করিয়ারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পেকুয়ার বারবাকিয়া ইউনিয়নের আখতারুজ্জামান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে বদলি হয়ে আসেন এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলছেন।

আর আজিজা খানম চট্টগ্রামের রেলওয়ে পাবলিক হাইস্কুলে ইংরেজি বিষয়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে ৪-৫ বছর ধরে কর্মরত। তারা পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলেও কাগজে-কলমে পেকুয়া জিএমসির নিয়মিত শিক্ষক দেখিয়ে এখন চাকরি জাতীয়করণের জন্য জোর চেষ্টা-তদবিরে ব্যস্ত।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শাহাব উদ্দিন পেকুয়া জিএমসি ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক হাজিরা খাতায় উপস্থিতির স্বাক্ষর করেছেন। শিক্ষক হাজিরা খাতায় ওই চার মাস তিনি সকাল ৮টায় বিদ্যালয়ে আগমন এবং বিকেল ৪টায় বিদ্যালয় থেকে প্রস্থান করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আবার ২০১৭ ইংরেজির সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চার মাস উজানটিয়া ইউনিয়নের করিয়ারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাজিরা খাতায়ও স্বাক্ষর করেছেন।

অন্যদিকে, আজিজা খানম শেফাও কাগজে-কলমে জিএমসিতে যোগদান করলেও আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়ে আসেননি।   

পেকুয়া জিএমসির প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিনকে কল দিলে তিনি এসব ব্যাপারে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। 

পেকুয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সালামত উল্লাহ খান বলেন, একসঙ্গে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করা অন্যায় ও বিধিবহির্ভূত। বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।