ফেনীতে ব্যতিক্রমী আয়োজনে দেশি-বিদেশি বিড়াল প্রদর্শনী ও বিড়ালের র্যাম্প শো অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় রাজাঝি দিঘির পাড়ে অবস্থিত নবীনচন্দ্র সেন কালচারাল সেন্টারে ফেসবুক গ্রুপ ফেনী অ্যানিমেল লাভারস এ আয়োজন করে।
আয়োজক কমিটি জানায়, প্রদর্শনীতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের ২৫টি বিড়াল প্রদর্শিত হয়। যার মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণের জন্য বিড়ালের ‘র্যাম্প শো’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিনা মূল্যে প্রাণীদের চিকিৎসা সেবাও প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠান আয়োজক ও ফেনী অ্যানিমেল লাভারস’র সিইও সাইমুন ফারাবী বলেন, পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধে এবং মানুষের ভালোবাসা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ব্যতিক্রমী আয়োজন। এর আগে রাজধানী বা বিভাগীয় শহরগুলোতে এমন আয়োজন হলেও মফস্বলের জন্য এটি অনেক বড় প্রাপ্তির বিষয়।
তিনি বলেন, আমরা যে পরিমাণ দর্শনার্থী সমাগম আশা করেছিলাম তার চেয়ে তিনগুণ বেশি হয়েছে। সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে এমন আয়োজন করব।
ফেনী প্যাড ক্লিনিকের ভেটেরিনারি চিকিৎসক ডা. মো. ইব্রাহীম বলেন, প্রদর্শনীর মাধ্যমে মানুষ পোষা প্রাণীর সম্পর্কে জেনেছে এবং মানুষের মধ্যে বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়েছে। পরে প্রদর্শনীটি বড় আকারে করার পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজনে অংশ নেয়া ২৫টির বেশি বিড়ালের চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
ব্যতিক্রম আয়োজনের প্রশংসা করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী আহসান জোবায়ের বলেন, এমন আয়োজন ফেনীর জন্য নতুন একটা মাইলফলক। রাজধানী ঢাকায় বা অন্য কোনো জেলায় এ রকম স্বতন্ত্র ও ব্যতিক্রমী আয়োজন হয় বলে আমার জানা নেই। দারুণ এই আয়োজন দেখতে ছোট বোনসহ চলে এসেছি। আশা করি ফেনীতে এমন আয়োজন আরও হবে। আমরা পশু ও প্রাণীর প্রতি সদয় হব। ফেনীর এই আয়োজন সারা দেশে ছড়িয়ে যাবে।
ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তারান্নুম আক্তার বলেন, প্রদর্শনীতে ৪টা বিড়াল নিয়ে এসেছি। এর মধ্যে একটি বিদেশি জাতের।
বিড়াল পালনে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে এ শিক্ষার্থী বলেন, শুরুতে পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখন অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে।
সানজিদ আরেফিন নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, মফস্বলে এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রাণীদের প্রতি অহিংস মনোভাব তৈরি হবে। তবে আয়োজনস্থলে অনেক গরম ছিল। এতে বিড়াল নিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। ভবিষ্যতে বাইরে আরো বড় জায়গায় এমন আয়োজন করলে সাধারণ মানুষও এ বিষয়ে জানতে পারবে।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারীদের ফি ও খরচ প্রসঙ্গে ফারাবী বলেন, সবার জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত ছিল। এখানে ১০ টাকা দামের একটি র্যাফেল বিক্রি করা হয়েছে। এখান থেকে ৬০ শতাংশ ভ্রাম্যমাণ অসুস্থ কুকুর-বিড়ালের চিকিৎসায় খরচ করা হবে। বাকি ৪০ শতাংশ অনুষ্ঠানের খরচে ব্যবহৃত হবে।