সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের তৎপরতা এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানকে ঘিরে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি বেড়েছে। চীনের কড়া আপত্তি উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের পর থেকেই চীন-তাইওয়ান উত্তেজনা তুঙ্গে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের দক্ষিণ কোরিয়া সফর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক মহড়ার জবাবে এক সপ্তাহে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এর মধ্যে গতকালই জাপানের ওপর দিয়ে মিসাইল ছোড়ে পিয়ংইয়ং।
দুদিকেই এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে মিত্রদের বারবার আশ্বস্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র। জাপানের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের নিন্দা জানিয়ে মিত্রদের রক্ষার অঙ্গীকার করেছে দেশটি। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের কর্মকাণ্ডকে ‘বিপজ্জনক ও বেপরোয়া’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র তার সব শক্তি দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানকে রক্ষা করবে। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গেও আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনের দরজাও উন্মুক্ত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র অ্যাড্রিয়েন ওয়াটসন বলেন, পিয়ংইয়ং স্পষ্টতই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতির প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছে। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন। ‘উপযুক্ত ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া’ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নিষিদ্ধ অস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে ওয়াশিংটন তার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা শীর্ষদের এ অঙ্গীকারের আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চীনের বিরুদ্ধে তাইওয়ানকে রক্ষার একই প্রতিশ্রুতি দেন। গেল মাসে চীন-তাইওয়ান উত্তেজনা চরমে পৌঁছলে ১৮ সেপ্টেম্বর এক টেলিভিশনে চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাইডেন বলেন, ‘চীন হামলা চালালে তাইওয়ানকে রক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র।’
ওই সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের মতো তাইওয়ানের পাশে থাকবে কি নাÑ এমন প্রশ্নের উত্তরে বাইডেন সম্মতিসূচক ‘হ্যাঁ’ বলেন। অবশ্য তার এ প্রতিশ্রুতির পর হোয়াইট হাউজ থেকে এ ব্যাপারে একটি ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, তাইওয়ানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ নীতিতে তাইওয়ানের ব্যাপারে সামরিক পদক্ষেপের অঙ্গীকার নেই। তাইওয়ানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সবসময়ই কৌশলগত। চীনের পূর্বাঞ্চলের উপকূলে তাইওয়ান স্বশাসিত একটি দ্বীপ। পেইচিং তাইওয়ানকে নিজেদের অঞ্চল বলে মনে করে। ওয়াশিংটনও কূটনৈতিকভাবে এক চীন নীতি মেনে চলে। পেইচিংয়ের সঙ্গে এটি ওয়াশিংটনের সম্পর্কের ভিত্তি।