আন্তর্জাতিক বাজারে কমতে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের দাম। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের মধ্যেই খাদ্যশস্য রপ্তানির জন্য কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো খুলে দিতে জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি চুক্তি সইয়ের সুফল পেতে শুরু করেছে সারা বিশ্ব। সুফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশও। চুক্তির প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে গম, চিনি, ভোজ্য তেল ও মসুর ডালের।
ইতিমধ্যেই সরকারের গণমুখী উদ্যোগের কারণে দাম কমছে সব ধরনের চাল, ভোজ্য তেল বিশেষ করে সয়াবিন ও পাম অয়েলের। স্থিতিশীল রয়েছে মসুর ডালের দাম। ব্যবসায়ীদের আপত্তি থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে কমানো হয়েছে চিনির দাম। বাণিজ্য মন্ত্রণালয সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধের প্রভাবে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্ভিক্ষের পদধ্বনির মাঝেই খাদ্যশস্য রপ্তানির জন্য কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলো খুলে দিতে সম্মত হয়েছে ওই দুই দেশ। গত ২২ জুলাই জাতিসংঘ-সমর্থিত চুক্তিটি সই করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। এর ফলে খাদ্যশস্য পরিবহন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা কেটে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে গমের দাম কমেছে ৩ থেকে ৪ শতাংশ। দেশেও পাইকারি পর্যায়ে দাম কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দুই-একটি ব্র্যান্ডের আটা-ময়দার দামও কমেছে। ৫০ কেজির প্রতি বস্তা আটার দাম ২ হাজার ১০০ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০০ টাকা। দেশের খুচরা বাজারে এর পুরোপুরি সুফল পেতে আরও কিছু দিন সময় লাগবে। দেশে গম আমদানির অন্যতম উৎস রাশিয়া ও ইউক্রেন। সবশেষ ভারত থেকে গম আমদানি বন্ধের পর স্থানীয় বাজারে লাফিয়ে বাড়তে থাকে আটা-ময়দা এবং এ দিয়ে তৈরি পণ্যের দাম। অপরদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে কমতে শুরু করেছে গমের দাম।