মাঝ সেপ্টেম্বরে উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলনে চীন, ভারতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে শীঘ্রই ইউক্রেন যুদ্ধের ইতি টানার কথা জানিয়েছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর ২৩ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর দখলকৃত ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিজিয়া অঞ্চলে গণভোটের আয়োজন করে রাশিয়া। সেই গণভোটের ফলকে পুঁজি করে ওই চার অঞ্চলকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার অংশ ঘোষণা করেন পুতিন। গতকাল বুধবার তিনি এ সংক্রান্ত একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন।
পুতিনের এই তাড়াহুড়ো নিয়ে এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচার মাধ্যম সিএনএন। প্রতিবেদনের শুরুতেই ক্রেমলিন সমর্থিত রাশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের পরিচালক আন্দ্রে করতুনভের ভাষ্য তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন গোটা বিষয়টি যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে চান।’
করতুনভের বরাতে সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, যুদ্ধের কারণে, বিশেষ করে নতুন ৩ লাখ অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ঘোষণায় পুতিন নিজ দেশেই ক্ষোভ বাড়িয়েছেন। আর বাস্তবতা হলো ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় দখলকৃত এলাকা থেকেও পিছু হটছে রুশ বাহিনী। সেখানে নতুন করে সেনা মোতায়েনে রাতারাতি অবস্থার পরিবর্তন হওয়ার কথা নয়। এ পরিস্থিতিতে ঘর সামাল দিতেই এ যুদ্ধে কিছু একটা অর্জন হয়েছে দেখাতে মরিয়া পুতিন। সিএনএনের কূটনৈতিক বিশ্লেষক নিক রবার্টসনের দাবি, এজন্যই ইউক্রেনের চার অঞ্চলকে নিজের ঘোষণা করেছে রাশিয়া।
এদিকে ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চলকে রাশিয়াভুক্ত করার পর পুতিন এবার ইউক্রেনকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন এবং শান্তি আলোচনায় বসতে চেয়েছেন। তবে তিনি ইউক্রেন ও দেশটির পশ্চিমা মিত্রদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন রাশিয়াভুক্ত হওয়া লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, খেরসন ও জাপোরিজিয়াকে নিয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই। এই চার অঞ্চল ও এসবের অধিবাসীরা চিরদিনের জন্য রাশিয়ার হয়ে গেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় না বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত মঙ্গলবার এ নিয়ে একটি আদেশও জারি করেছেন। আলোচনার সম্ভাবনাকে ‘অসম্ভব’ উল্লেখ করে ডিক্রিতে স্বাক্ষরের পর জেলেনস্কি বলেন, ‘মর্যাদা ও সততা কী, তা পুতিন জানেন না। আমরা রাশিয়ার সঙ্গে সংলাপের জন্য প্রস্তুত, তবে তা পুতিনের সঙ্গে নয়, রাশিয়ার অন্য কোনো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে।’
বিতর্কিত গণভোটের মাধ্যমে গত শুক্রবার ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলীয় ৪ অঞ্চল নিজেদের ঘোষণা করার পর এরই মধ্যে অধিকৃত দুটি অঞ্চল প্রায় হাতছাড়া রাশিয়ার। ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রবল প্রতিরোধে দোনেৎস্কের প্রধান শহর লাইমান থেকে পিছু হটার পর এখন দক্ষিণের খেরসন থেকেও পিছু হটছে রুশ বাহিনী। কাগজকলমে রাশিয়া চার অঞ্চল নিজের করে নিলেও যুদ্ধক্ষেত্রে যখন কোণঠাসা, ঠিক সেই সময় জেলেনস্কি আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন।
এদিকে, জেলেনস্কির এমন সিদ্ধান্তের পর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, শান্তি আলোচনার বিষয়ে ইউক্রেনের অবস্থান পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করবে মস্কো। হোক সেটি বর্তমান প্রেসিডেন্ট কিংবা ইউক্রেনের জনগণের স্বার্থে তাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত।
বর্তমানে রাশিয়া বাড়তি সেনা দিয়ে হারানো এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ফেরানোতে মনোযোগী। গত ২১ সেপ্টেম্বর পুতিন রিজার্ভ থেকে অতিরিক্ত সেনা ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত ২ লাখ নাগরিককে রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা হয়েছে।